1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

সচিবালয় সরিয়ে ‘সমস্যার সমাধান’ নাকি ‘নতুন সংকট তৈরি’

বিডি নিউজ ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭৩ বার পঠিত

দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিপুল ব্যয়ে এই স্থানান্তরের যৌক্তিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নতুন এলাকায় সমস্যাও স্থানান্তর হবে কি না- তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকার ব্যয় সাশ্রয়, অপচয় কমানো ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিতে চলছে। এই মুহূর্তে কয়েক হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা এবং সঠিক জায়গায় স্থানান্তর নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পুরোনো সচিবালয়ে জায়গার সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কথা বলছে সরকার। কিন্তু, নতুন প্রকল্পে ঢাকার ওপর চাপ কতটা বাড়বে, উন্মুক্ত জায়গা, সম্ভাব্যতা যাচাই না করা এবং পূর্বাচলসহ বিকল্প স্থান বিবেচনা করা হয়েছে কি না- তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় ২০২৯ সালের মধ্যে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে আপত্তি জানিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যেও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, ব্যয় ও যানজটের প্রভাব নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।

কেন নতুন সচিবালয়?
গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কমপ্লেক্স থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন, তিনটি বেজমেন্ট, গাড়ি পার্কিং, মসজিদ, বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর থাকবে। প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ কমপ্লেক্সে থাকবে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০০টি গাড়ি মাটির ওপর পার্কিং করতে পারবে। প্রকল্প এলাকায় ৩০ শতাংশ সবুজ জায়গা ও জলাধার রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সরকারের যুক্তি, বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা সীমিত। সেখানে পুরোনো ভবন রয়েছে, কিছু ভবন ভূমিকম্প সহনশীল নয়। দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি আছে। বর্তমানে সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। এসব ভবনে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস থাকলেও প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মূল সচিবালয় কমপ্লেক্সের বাইরে রয়েছে ১৬টি মন্ত্রণালয়। নতুন কমপ্লেক্সে সেগুলো আনা হতে পারে।

নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতি লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণের কথা বলা হলেও নকশাটি হুবহু একই হবে না বলে জানা যায়। বৈদ্যুতিক, পানি সরবরাহ ও কাঠামোগত নকশাসহ বিস্তারিত কাজ এখনো বাকি। প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়ও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানা যায়। বাস্তবায়নকাল হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি প্রস্তাবিত ব্যয়, চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয় নয়। বিস্তারিত নকশা ও প্রকৌশলগত কাজ শেষে প্রকৃত ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আগারগাঁওয়ের জমি নিয়ে আপত্তি:
সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো আপত্তি এসেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) থেকে। আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জমি বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাদের বক্তব্য, কৃষি গবেষণার জন্য জমির সংকটের মধ্যে এই মাঠ সচিবালয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাঠটি ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।

শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। পাশাপাশি পুরো এলাকার যে শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ রয়েছে, তা ব্যাহত হবে।

অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিনের আশঙ্কা, সচিবালয় হলে যানবাহনের চাপ ও জনঘনত্ব বাড়বে, তীব্র হবে যানজট।

তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রবেশ ও বের হবে। এতে শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে মানুষের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত হয়ে পড়বে। পূর্বাঞ্চলে জনবসতি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার ঢাকার ভেতরে স্থাপনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। এতে শহরের ওপর চাপ বাড়ছে।

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিবর্তে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ ও আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন। এ ক্ষেত্রে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার উদাহরণ টানেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে উদ্বেগ ও আপত্তি রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরবো। পরিবেশবাদীদের সঙ্গে আবারও কথা বলব, যাতে তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।’

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ:
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পরিবেশবাদীদের মতে, রাজধানীতে খোলা জায়গা, খেলার মাঠ ও মানুষের চলাচলের স্থান এমনিতেই কম। অবশিষ্ট জায়গা উন্নয়নের নামে সংকুচিত হলে নগরের বাসযোগ্যতা আরও কমবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি বাসযোগ্য নগরে যে পরিমাণ খোলা জায়গা থাকা দরকার, ঢাকা শহরে তার মাত্র ১০ শতাংশ রয়েছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও উন্নয়নের নামে দখল বা সংকুচিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগারগাঁওয়ের প্রস্তাবিত জায়গাটি সকাল-সন্ধ্যায় হাজারো মানুষের চলাচল, হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, নতুন সচিবালয়ে কতটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তর করা হবে, কত যানবাহন প্রবেশ ও বের হবে এবং আশপাশের সড়ক সেই চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে পর্যাপ্ত সমীক্ষা হয়েছে কি না। সব মন্ত্রণালয় একই জায়গায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বাপার সাধারণ সম্পাদকের মতে, মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা থেকে সরকারি কাজে ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

সরকারের পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বক্তব্যের সঙ্গে এ ধরনের পরিকল্পনার অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির কথা বললেও রাজধানীর অবশিষ্ট উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের এমন পরিকল্পনা নগরকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

চন্দ্রিমা উদ্যান ও রেলওয়ে খালের নকশায় উন্মুক্ত স্থান রাখার ধারণা থেকে সরে না আসারও দাবি জানিয়েছেন তারা। আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা শহরে এমনিতেই খোলা জায়গা কম। যেটুকু আছে, সেটুকু কোনোভাবেই আমরা এভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না। আমরা চাই, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি পরিবর্তন করা হোক।

আগারগাঁও, নাকি পূর্বাচল:
সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে নগর পরিকল্পনার যৌক্তিকতা, রাজধানীর ওপর চাপ কমানো ও প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তর করলে ওই এলাকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে পূর্বাচলে সচিবালয় স্থাপন করা হলে সেখানে সরকারের বিপুল বিনিয়োগে গড়ে তোলা সড়ক অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতো।

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনা করা যায় না। ঢাকার ওপর চাপ কমানো ও সরকারি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ‘সচিবালয়ের বর্তমান অবকাঠামোতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান বিনিয়োগের ব্যবহার, নতুন প্রকল্পের ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল তুলনা করা জরুরি। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে নতুন সচিবালয় নির্মাণের বড় অঙ্কের ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা-ও মূল্যায়নের প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার আগারগাঁওয়ে সচিবালয় নির্মাণের পক্ষে। তার মতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সরকারি আবাসন থেকে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগারগাঁও কার্যকর স্থান হতে পারে।

তিনি মনে করেন, কৃষি গবেষণার জন্য শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জমি ধরে রাখার পরিবর্তে ভিন্ন এলাকায় উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ভবন বদলালেই কি সমস্যার সমাধান?
সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করলেই রাজধানীর যানজট ও নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু স্থান পরিবর্তন করে আগের সমস্যাগুলো নতুন এলাকায় নিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।-বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, ‘সচিবালয় স্থানান্তরের সুফল নির্ভর করবে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। বর্তমান সচিবালয়ের ভবন বিন্যাস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সমস্যাগুলো নতুন স্থানে সংশোধন করা গেলে সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যার মূল কারণ দূর না করে শুধু স্থান পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। একইভাবে, বর্তমান সচিবালয়ের পরিকল্পনাগত ত্রুটি নতুন স্থানে পুনরাবৃত্তি হলে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিবালয়ের ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে অফিসের জায়গার সংকট কমানো গেলেও যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থাপনের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক হিসেবে মেট্রোরেল যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন হাসান। তার মতে, প্রস্তাবিত স্থানটি আগারগাঁও ও বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি হওয়ায় হেঁটে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, যারা হেঁটে আসতে পারবেন না, তাদের জন্য শাটল সার্ভিস বা বিনামূল্যের পরিবহনসেবা চালু করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নতুন সচিবালয়ের নকশায় গণপরিবহন ও পথচারীদের চলাচলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত, যানজট ও নাগরিক ভোগান্তিও বিবেচনায় নিতে হবে। স্থানান্তরের ফলে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হলে তবেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।

ঢাকা শহরকে সচল রাখতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। সচিবালয় সরানো নিয়ে মানুষ ইতিবাচক হলেও স্থান নিয়ে কারও কারও আপত্তি বা ভিন্নমত রয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহরকে সচল করতে সেখানে নেওয়ার পক্ষে মত অনেকের। সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেক সমস্যার যেন উদ্ভব না হয় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর