1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

সংগীতে আমার সাফল্য দেখে বাবা-মাও এখন খুশি : সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা

বিনোদন প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত

সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা। ২০০৮ সালের ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতা দিয়ে সংগীতে আত্মপ্রকাশ বাঁধন সরকার পূজার। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের সুমিষ্ট কণ্ঠ আর চমৎকার গান দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। ইদানিং ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার বাড়তি উন্মাদনা চোখে পড়ছে সবার। গান থেকে ফুটবল কিংবা ফেলে আসা চাকরিজীবন—গায়িকার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিজনেস ডাইজেস্ট প্রতিনিধি।

বিজনেস ডাইজেস্ট: ফুটবল বিশ্বকাপের বিভিন্ন শোতে আপনাকে প্রায়ই অতিথি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা কেমন উপভোগ করছেন?

বাঁধন সরকার পূজা: হ্যাঁ, আসলে অনেকে ভাবছেন আমি হয়তো উপস্থাপনা করছি। তবে বিষয়টি তা নয়; আমি মূলত ফুটবল নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন বিশেষ শো-তে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হচ্ছি। এই অভিজ্ঞতা আমি প্রতিবারই ভীষণ উপভোগ করি। ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই আমার দারুণ একটা উন্মাদনা কাজ করে। ফুটবলের প্রতি আমার গভীর টান রয়েছে। সবাই জানে আমি চরম ফুটবলপ্রেমী এবং বেশ গোঁড়া ঘরানার সমর্থক। খেলা চলার সময় এ কারণেই ফুটবলকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলো থেকে ডাক পড়ে এবং আমারও সবার সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে দারুণ লাগে।

বিজনেস ডাইজেস্ট: আপনার বাবা-মা দুজনেই কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক, অথচ আপনি ঘোর ব্রাজিল ভক্ত! একই পরিবারে উল্টো স্রোতে হেঁটে ব্রাজিলিয়ান হয়ে উঠলেন কিভাবে?

বাঁধন সরকার পূজা: ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল খেলা দেখে বড় হয়েছি। ওই সময়ে ব্রাজিলের দলে খেলতেন কাকা, রোনালদো, রোনালদিনহোর মতো বিশ্বসেরা তারকারা। ফুটবলকে যারা আসলে গভীরভাবে বোঝেন বা ভালোবাসেন, তারা সবাই কিন্তু এই ফুটবল জাদুকরদের ভক্ত হতে বাধ্য। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

আর বাবা-মায়ের কথা যদি বলি, তারা মূলত দিয়েগো ম্যারাডোনার খেলা দেখে বড় হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা আর্জেন্টিনার অন্ধ সমর্থক। আমাদের প্রজন্মের বাকি সবাই কিন্তু ব্রাজিল সাপোর্ট করে, তাই ঘরে এ নিয়ে কোনো সমস্যা বা বড় কোনো দ্বন্দ্ব হয় না। আমরা যে যার দল পছন্দ করি এবং খেলার আনন্দটা সবাই মিলেই উপভোগ করি।

বিজনেস ডাইজেস্ট: সম্প্রতি কাজী শুভর সঙ্গে দুটো নতুন গান রেকর্ড করেছেন। গান দুটির ধরন কেমন? কবে নাগাদ শ্রোতারা এগুলো শুনতে পাবেন?

বাঁধন সরকার পূজা: দুটি গানই পুরোপুরি রোমান্টিক ঘরানার। এর মধ্যে একটি গান প্রকাশিত হবে শুভ ভাইয়ের নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে এবং অন্যটি আসছে ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’র ব্যানারে। শুভ ভাইয়ের চ্যানেলের গানটি খুব দ্রুতই দর্শক-শ্রোতারা পেয়ে যাবেন। আর ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের গানটির বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নই, তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি রিলিজ করা করা হবে। যেহেতু শুভ ভাইয়ের সাথে আমার ডুয়েট গানের দারুণ একটা শ্রোতাপ্রিয়তা রয়েছে, তাই ভক্তদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই গানগুলোর সুর করা হয়েছে।

বিজনেস ডাইজেস্ট: কাজী শুভর সঙ্গে তো আপনার আগেরও অনেক গান রয়েছে এবং বেশ কিছু গান সুপারহিট হয়েছে। সহকর্মী হিসেবে তাকে নিয়ে কিছু বলুন…

বাঁধন সরকার পূজা: কাজী শুভ ভাইয়ের সাথে করা গানগুলো মানুষ দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। আমাদের জুটিবদ্ধ কিছু গান তো দারুণ সফল। একটা গান তো অলরেডি ৯০ মিলিয়নের কাছাকাছি ভিউ স্পর্শ করেছে, খুব শিগগিরই হয়তো ১০০ মিলিয়ন হয়ে যাবে। এমনও হয়েছে, গান প্রকাশের সাথে সাথেই মানুষ লুফে নিয়েছে এবং নতুন নতুন অনেক গানকে পেছনে ফেলে সেই গানগুলো শ্রোতাদের তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। আমাদের জুটির প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার কারণেই বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখনও আমাদের দিয়ে গান করাতে ব্যাপক আগ্রহ দেখায়।

বিজনেস ডাইজেস্ট: এছাড়া নতুন আর কী গান করছেন? নাটক কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজের কোনো খবর আছে?

বাঁধন সরকার পূজা: হ্যাঁ, নতুন বেশ কিছু নাটকের কাজ তো করছিই। পাশাপাশি সামনে আদর আজাদ ও পূজা চেরীর একটি নতুন সিনেমা আসছে ‘নাকফুলের কাব্য’। এই সিনেমার টাইটেল ট্র্যাক আমার গাওয়া। আশা করছি শ্রোতাদের গানটি পছন্দ হবে।

বিজনেস ডাইজেস্ট: আপনার বাবা-মা চেয়েছিলেন আপনি পড়াশোনা শেষ করে একজন ইঞ্জিনিয়ার হবেন। অথচ আপনি বেছে নিলেন সুরের ভুবন। এ নিয়ে বাবা-মায়ের কোনো আক্ষেপ আছে কি?

বাঁধন সরকার পূজা: আক্ষেপ তো কিছুটা অবশ্যই আছে। পড়াশোনায় আমি বরাবরই খুব ভালো ছিলাম, গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছি এবং ইউনিভার্সিটির রেজাল্টও বেশ ভালো ছিল। এক পর্যায়ে যখন ‘ডেসকো’ -তে ইন্টার্নশিপ করি, তখন অনেকেই এসে বলতেন ‘পূজা আপু ডেসকোতে আছেন, ওনাকে বললে হয়তো আমাদের এই বিদ্যুতের লাইন বা বিলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ কিন্তু কর্পোরেট চাকরির সেক্টরটা তো আসলে সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে তো চাইলেই সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো করা যায় না।

তাই একদিকে ভক্তদের প্রত্যাশা আর অন্যদিকে চাকরির সীমাবদ্ধতার কারণে আমি চাকরিটা আর কন্টিনিউ করিনি। গান আর ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা—দুটো একসাথে সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তাই পূর্ণ মনোযোগ গানেই দিয়েছি। বাবা-মা কিছুটা মন খারাপ করেছিলেন, এত কঠিন পড়াশোনা শেষ করে আমি চাকরিটা করলাম না। তবে সংগীতে আমার সাফল্য দেখে বাবা-মাও এখন খুশি।

বিজনেস ডাইজেস্ট: বর্তমান ভিউ বা ট্রেন্ডের যুগে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের মৌলিকত্ব টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জটাকে কীভাবে দেখছেন?

বাঁধন সরকার পূজা: আমি তো ২০০৮ সাল থেকে পেশাদারভাবে গান করছি। এতগুলো বছর পেরিয়ে এসেও কিন্তু মানুষ আমার গান ভালোবাসে। এর একমাত্র কারণ, আমার মৌলিক গানগুলো। বেঁচে থাকার জন্য অনেক সময় অন্যের গান বা পুরোনো জনপ্রিয় গান গাইতে হতে পারে; তবে নিজের মৌলিক পরিচয় তৈরি করা ছাড়া একজন শিল্পী দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না। আমি আজ গান গাইছি, যদি চলেও যাই, তবে আমার এই মৌলিক গানগুলোই আমাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঁচিয়ে রাখবে। তাই মৌলিকত্বের চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থাকবে এবং নিজের গান টিকিয়ে রাখাটাই একজন খাঁটি শিল্পীর সার্থকতা।

বিজনেস ডাইজেস্ট: সবশেষে জানতে চাই, আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ‘বাঁধন’ কোনটি?

বাঁধন সরকার পূজা: আমার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং মধুর বাঁধন হচ্ছে আমার পরিবার। আমার বাবা-মা, বোন এবং বর্তমানে আমার স্বামী, ওরাই আমার বড় শক্তির জায়গা। সংগীতযাত্রার শুরু থেকে ফ্যামিলির সাপোর্টটা যদি আমি না পেতাম, তবে মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে থাকতাম, কাজের কোনো উৎসাহ পেতাম না। প্রথমে বাবা হয়তো খুব একটা সাপোর্ট করতে চাননি, তিনি চেয়েছিলেন আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই মনোযোগ দিই। কিন্তু যখন সেরাকণ্ঠে সাফল্য পেলাম এবং গানের প্রতি আমার নিষ্ঠা দেখলেন, তখন বাবাও সাপোর্ট করা শুরু করলেন। আর শো করতে গিয়ে যখন দেখি আমার একটা লাইন গাওয়ার পর দর্শকরা পুরো গান গেয়ে দিচ্ছেন, তখন এই শ্রোতাদের ভালোবাসাও একটা বড় বাঁধন হয়ে দাঁড়ায়।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর