পৌষ-মাঘ দুই মাস শীতকাল। দেশে বইছে পৌষের শীত। মাসের শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা বেশি না হলেও শেষদিকে বইতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় অনেকে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেন। এই বীজতলার পরিচর্যা সঠিক ভাবে নিতে হবে চাষিদের। সেই বিষয়েই রইলো কিছু পরামর্শ।
মূলত শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের চারা হলুদাভ হয়ে শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া শীতের প্রকোপে চারা পোড়া বা চারা ঝলসানো রোগের জন্য চারা মারা যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে বাড়তি কিছু পরিচর্যা জরুরি।
>> শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে। দীর্ঘসময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ চললে দিনে এবং রাতে সব সময় পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখতে হবে। বীজতলার উভয়পাশে পলিথিন আংশিক খোলা রাখতে হবে।
>> বীজতলায় ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো। বীজতলায় পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে জমা করা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে।
>> চারা পোড়া বা কলসানো রোগ দমনের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার অ্যাজোস্কিস্ট্রোবিন বা পাইরাক্লোস্টবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজতলায় বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
>> বীজতলার চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরও চারা সবুজ না হলে প্রতি শতক জমিতে ৪০০ গ্রাম হারে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।
>> জমিতে রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫-৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এই বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে চারার মৃত্যুর হার কমে।
>> চারা রোপণের সময় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েকদিন দেরী করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে চারা রোপণ করতে হবে।
>> রোপণের পর শৈত্যপ্রবাহ হলে জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। শীতের তীব্রতা ও বয়স বিবেচনা করে চারা রোপণ করলে চারা সতেজ থাকবে এবং বেশি ফলন পাওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.