আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বতন্ত্র ও অনন্য করে তুলতে হলে আমাদের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পর তহবিলে আর তেমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। তাই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিজস্ব বা স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করা জরুরি। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা যেন সুষ্ঠুভাবে গবেষণা চালাতে পারেন, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছিল।
উপাচার্য বলেন, একটি গণআন্দোলন হয়তো কোনো অন্যায় শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু একটি উন্নত ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও একাডেমিক গবেষণা।
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘ব্লু-প্রিন্ট’ বা রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।
জনপ্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ঢাবি উপাচার্য বলেন, আমরা এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই—যা হবে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ এবং জনগণের কথাকে প্রকৃত অর্থে গুরুত্ব দেবে। কর্মকর্তা ও প্রশাসকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তাদের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সেবা করা, তাদের ওপর শাসন চালানো নয়।
অনুষ্ঠানে লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীর সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ স্বাগত বক্তব্য দেন। সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও রবিউল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।