একদিন আমার মৃত্যুর খবর
পাতায় পাতায়, খবরে খবরে ছেয়ে যাবে।
কেউ হাসবে, কেউ কাঁদবে,
কেউবা বলবে ধুর ছাইপাঁশ মরে গেল
অপছন্দনীয় গালির বন্যায় ভাসিয়ে দেবে।
আহা বেঁচে থাকতে কতই না দাপট
এখন কবরে আজাবে মরুক।
তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে কেউ কেউ
ফেসবুকের টাইমলাইনে চোখ বোলাবে।
কিছু আপনজন, প্রিয় মানুষ
নীরবে চোখ মুছবে রুমালে, আঁচলে
বলবে বড়ই ভালো ছিল সে,
তার কথায় আর লেখায় মানুষের কথা বলতো
অধিকারের কথা বলতো।
একদিন আমার মৃত্যুর খবর
পাতায় পাতায়, খবরে খবরে ছেয়ে যাবে নিশ্চিত।
সভ্যতার হুংকার
মন্দির থেকে শোনা যায়, সভ্যতার হুংকার
বলে যায় এই বিশ্ব নয়, তোমার আমার।
একটি নগরী ধ্বংস হয়েছে, নেমেছে অন্ধকার
মিলেমিশে মেনে নেওয়া, নেই তাদের সভ্যতায়।
মন বিষণ্ন করে আমাদের চলার নেই ঠাঁই
মসজিদ থেকে আজান শোনা যায়, বোঝ তার দায়।
গির্জা থেকে আসে শান্তির বাণী
প্যাগোডা থেকে ভেসে আসে অভয়ের হাতছানি।
প্রতিটি ধর্ম বলে যায় শান্তির বাণী
বুঝতে পারলেই অভয়ে ভরে উঠবে তোমার হৃদয়খানি।
মানা না-মানা তোমার অধিকার জেনো
কিন্তু ভেবে নিও প্রতিটা ধর্মের প্রতিশোধ আছে মানো।
পরজন্ম
তুমি কি কখনো ভেবেছ, পৃথবীর মায়া ত্যগ করে,
তুমি আমি পারি দেব অচিন পাড়ায়?
তুমি কি চিন্তায় এনেছ সমুদ্রের সুন্দর শো-শো শব্দ
শোনা বন্ধ করে দেবে আমাদের দুই কর্ণ।
আচ্ছা ভেবেছ কি, আমরা আলাদা হয়ে কীভাবে থাকব?
পাপ-পুণ্যের হিসেব তো এই জনমে রাখিনি।
পরজনমে কী করে আমি তোমায় পাবো?
ভেবেছ কি দুটি আত্মার কী পরিণতি হবে?
কেউ কাউকে দেখব না, এই চোখে।
শুধু অশ্রু গড়ানো শক্ত হয়ে যাবে,
ভেবে আগেই মরব, কেন হিসেব করিনি পরজন্মের।