রান্না যত যত্ন করেই করা হোক, এক চিমটি বাড়তি লবণই কখনও কখনোও পুরো স্বাদটাই বদলে দিতে পারে। ডাল, ঝোল, মাংস কিংবা সবজির রান্নায় হাত ফসকে একটু বেশি লবণ পড়ে গেলে অনেকেই ভাবেন, এবার বুঝি রান্নাটি নষ্ট! বিশেষ করে অতিথি আসার আগে এমন ঘটনা ঘটলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।
তবে লবণ বেশি হয়ে গেলেই রান্না ফেলে দিতে হবে, এমন নয়। বরং রান্নার ধরন বুঝে কিছু সহজ উপায়ে স্বাদে ভারসাম্য আনা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত লবণের প্রভাব কমাতে রান্নার পরিমাণ বাড়ানো, স্বাদ ব্যালান্স করা কিংবা কিছুটা তরল যোগ করাই বেশি কার্যকর।
ঝোল বেশি নোনতা হলে:
ঝোল জাতীয় তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেলে কয়েক টুকরো কাঁচা আলু বা পেঁপে খোসা ছাড়িয়ে বড় বড় করে কেটে দিয়ে দিন। এরপর হালকা আঁচে ৫ থেকে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। আলু বা পেঁপে অতিরিক্ত লবণ ও ঝোল শুষে নেবে। পরিবেশনের আগে চাইলে আলুর টুকরোগুলো তুলে ফেলে দিতে পারেন বা রেখেও দিতে পারেন। এগুলো রান্নার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ফলে প্রতি পরিবেশনে লবণের ঘনত্ব কিছুটা কমে আসবে।
ডাল বা স্যুপে কাজে দেবে বাড়তি উপকরণ:
ডাল, সুপ কিংবা পাতলা ঝোলে লবণ বেশি হয়, তবে সাধারণ আটার ছোট ছোট লেচি তৈরি করে ফুটন্ত তরকারিতে ফেলে দিন। আটার গোল্লা তরকারির বাড়তি লবণ দ্রুত শুষে নেবে। পরিবেশন করার আগে আটার লেচিগুলো চামচ দিয়ে তুলে ফেলুন।
মাংসের গ্রেভিতে আনুন ক্রিমি স্বাদ:
রিচ গ্রেভি, কষা মাংস বা পনিরের তরকারিতে লবণ বেশি হলে টক দই, সামান্য কাঁচা দুধ, রান্নার ক্রিম কিংবা মাখন মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে গ্রেভির অতিরিক্ত লবণ ভাব যেমন কেটে যাবে, তেমনই তরকারিতে আসবে এক দারুণ ক্রিমি টেক্সচার । তবে কোন উপকরণ ব্যবহার করবেন, তা রান্নার ধরন অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।
শুকনো সবজিতে বাড়ান কিছু উপকরণ:
সবজি বা শুকনো রান্নায় নুন বেশি হলে একটি আলাদা পাত্রে কিছুটা পেঁয়াজ কুচি বা টমেটো কুচি ভেজে রান্নায় মিশিয়ে দিন। এছাড়া হালকা ছাঁকা পেঁয়াজ ভাজাও ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে লবণের প্রভাব কমার পাশাপাশি রান্নার স্বাদ ও সুবাস বহু গুণ বেড়ে যাবে।
লেবু বা চিনি স্বাদ সামলাতে পারে:
অতিরিক্ত নোনতা খাবারে অল্প অম্লত্ব বা মিষ্টত্ব অনেক সময় স্বাদের ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। তাই সামান্য লেবুর রস বা এক চিমটি চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে লবণের কড়া ভাব সহজেই ব্যালেন্স বা সমতায় চলে আসে।
শুকনো রান্না ঘন করতে পারেন:
ঘন্ট বা শুকনো সবজিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হলে সামান্য ভাজা বেসন বা ছাতু ব্যবহার করা যায়। এতে রান্না কিছুটা ঘন হবে এবং স্বাদের তীব্রতাও ভারসাম্যপূর্ণ মনে হতে পারে।
লবণ বেশি হয়ে গেলে একবারে অনেক কিছু মিশিয়ে না ফেলা। অল্প অল্প করে উপকরণ যোগ করে প্রতিবার স্বাদ দেখে নেওয়াই ভালো। রান্না ঠিক করার সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল হলো লবণবিহীন উপকরণ বা তরল দিয়ে রান্নার পরিমাণ বাড়ানো। তাই এক চিমটি বাড়তি লবণ পড়লেও মন খারাপ না করে, বুদ্ধি করে সামলালেই বেশিরভাগ রান্নার স্বাদ আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: দ্য কিচেন, এনডিটিভি ফুড