1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেই রোডম্যাপ: উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

বিজনেস ডাইজেস্ট ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৯৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিজিএস আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ-মানবাধিকার প্রসঙ্গ’—শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের রোডম্যাপ দেবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ-মানবাধিকার প্রসঙ্গ’—শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেকগুলো কাজ নির্ধারণ হওয়ার পর রোডম্যাপ হবে। মাত্র দুই মাস, এর মধ্যে কেউ এখানে গন্ডগোল করছে, কেউ ওখানে গন্ডগোল করছে। এর মধ্যে আবার ভয়াবহ বন্যা। প্রশাসনকে রিঅর্গানাইজ করতে হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই রোডম্যাপ হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হয়েছে, যে কমিশনগুলো করা হয়েছে তাঁরাও ডাকবে।’

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, ছয়টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো অনেক বড় ধরনের সংস্কার। তিন দিন বা তিন মাসে হবে না। এগুলোর দায়িত্বে যারা আছেন তাঁরা নিশ্চয়ই পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা না করলে এগুলো টেকসই হবে না।’

সভায় অন্যান্য বক্তারা দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি সমাজে, রাষ্ট্রে মানুষের মৌলিক অধিকারসহ অন্যান্য অধিকারসমূহ নিশ্চিতের আহ্বান জানান। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন স্থায়ী হবে না বলে জানান তাঁরা।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য কী কী সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রয়োজন? র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মতো এলিট আইন প্রয়োগকারী ইউনিট এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা হয়রানি ও অপব্যবহার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? এই সংস্থাগুলোকে যেভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন।

গত ১৬ বছরে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ৬ হাজারের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোতে যারা কাজ করে তাঁরা আমাদের সন্তান। কোন প্রক্রিয়া তাঁদের খুনি বানাচ্ছে? সেই প্রক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হবে।’ তিনি আয়নাঘরসহ বিভিন্ন বাহিনীর টর্চার সেলগুলোকে দালিলিক প্রমাণের লক্ষ্যে সংরক্ষণের দাবি জানান।

মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর গুম-খুনের যে ধারাবাহিকতা চলছিল জুলাই অভ্যুত্থানে তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ করেছিল সরকার।

কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা বলেন, ‘একটা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন তা নির্ধারণ হবে সেই দেশের সংখ্যালঘুরা কেমন আছে তা দিয়ে।’

ট্রান্সজেন্ডার অধিকার কর্মী জয়া শিকদার বলেন, ‘সংবিধানে সকল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের মানুষের মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার হওয়ার কারণে আমরা শিক্ষা, চাকরি সবকিছু থেকে বঞ্চিত।’

জি নাইনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলের আগে রাজনৈতিক গুম বিষয়টি ছিল না।’

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আইনে কোনো সংকট নেই, সংকট প্রয়োগে। আইনের শাসন থাকলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হতো না।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের সংস্কার না করবে ততক্ষণ পরিপূর্ণ সংস্কার হবে না।’

সিজিএসের চেয়ারম্যান মুনিরা খান বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছতা ধরে রেখে খুব একটা কাজ করেছে বলে আমরা দেখতে পাইনি। কীভাবে কাজ করলে, কী করলে আমরা স্বৈরাচারের হাতে পড়ব না, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সংস্কারের জন্য, প্রয়োজনীয় সময় আমাদের এই সরকারকে দিতে হবে।’

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—নারী অধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট দিলরুবা শরমিন, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রাজনীতি বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাইমা আক্তার রীতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি তৌহিদ সিয়াম প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর