1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

যেমন ছিল বাবা-মায়ের সঙ্গে সাহাবিদের আচরণ

ইসলাম ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৮ বার পঠিত

মহানবীর (সা.) সাহাবিগণ দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ। দ্বীনের প্রত্যেকটা বিধান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তারা শ্রেষ্ঠ ছিলেন। ইবাদতের ক্ষেত্রে তারা যেমন শ্রেষ্ঠ ছিলেন, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি দায়িত্ব পালন, আদব ও আচরণের ক্ষেত্রেও তারা শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মায়ের প্রতি নবীজির (সা.) দুই সাহাবির শ্রদ্ধা ও দায়িত্বপূর্ণ আচরণের কথা উঠে এসেছে। তিনি বলেন, নবীজির (সা.) সাহাবিদের মধ্যে দুইজন এই উম্মতের মধ্যে তাদের মায়েদের প্রতি সবচেয়ে অনুগত ছিলেন; তারা হলেন, ওসমান ইবন আফফান (রা.) ও হারেসা ইবনে নোমান (রা.)। ওসমান ইবন আফফান (রা.) বলতেন, আমি মুসলমান হওয়ার পর থেকে কখনও আমার মায়ের চোখের দিকে তাকানোরও সাহস করিনি। হারেসা ইবনে নোমান (রা.) নিজের হাতে তার মাকে খাওয়াতেন। তিনি যদি তার মায়ের কোনো কথা বুঝতে না পারতেন তবে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করতেন না, বরং তিনি রুম থেকে চলে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত অন্যদের জিজ্ঞাসা করতেন।

নবীজির (সা.) আরেকজন সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) পিতৃভক্তি ছিল অতুলনীয়। একবার ইবনে ওমর (রা.) ভ্রমণ করছিলেন। পথে এক বেদুইনের সঙ্গে তার দেখা হলো। ইবনে ওমর (রা.) তাকে নিজের গাধার পিঠে চড়ালেন, তাকে নিজের পাগড়িটি দিয়ে দিলেন। সঙ্গীরা তাকে বললেন, সে তো একজন বেদুইন, সামান্য কিছুতেই তারা সন্তুষ্ট হয়। আপনি এত সমাদর করলেন কেন? ইবনে ওমর (রা.) বললেন, এই বেদুইনের বাবা আবার বাবা ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আমি নবীজিকে (সা.) বলতে শুনেছি, বাবার বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বড় পুণ্যের কাজ। (সহিহ মুসলিম)

সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন আল্লাহর বিধান ও ইসলামের শিক্ষার সর্বোত্তম অনুসারী। বাবা-মায়ের প্রতি দয়ালু ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার নির্দেশ তারা পেয়েছিলেন পবিত্র কোরআনে। এ ছাড়া নবীজিও (সা.) বারবার তাদের কাছে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সাথে সদচারণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। তাদের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালনপালন করেছেন’। (সুরা ইসরা: ২৩, ২৪)

ওপরে ইবনে ওমরের (রা.) ঘটনায় তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যে হাদিসে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার অংশ হিসেবে তাদের বন্ধু-বান্ধবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াকেও বড় নেক কাজ বলা হয়েছে। অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় কাজ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে উত্তম উপায় হিসেবে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতের সাথে উল্লেখ করেছেন বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ ও তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের কথা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি একদিন নবীজিকে (সা.) প্রশ্ন করলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? নবীজি (সা.) বললেন, যথাসময়ে নামাজ আদায়। তিনি বললেন, তারপর কোনটি? নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করা। (আল লুলু ওয়াল মারজান)

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর