নোয়াখালী—শুধু একটি জেলার নাম নয়, এটি এক গৌরবময় ইতিহাস, এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দীপ্ত প্রতীক। বাংলাদেশের মানচিত্রে নোয়াখালী যেন এক অনবদ্য রত্ন, যার দীপ্তি আজ আর শুধু আঞ্চলিক নয়, জাতীয়। এই অঞ্চল এখন যে কোনো যুক্তিতে বিভাগ ঘোষণার দাবি রাখে—এ দাবি আবেগের নয়, এটি প্রাপ্যতার।
এই জেলার মাটি যেমন উর্বর, তেমনি মানুষের মনও উদার। কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই নোয়াখালী তার স্বকীয়তা প্রমাণ করেছে। এখানকার কৃষক শুধু ধান ফলান না, তাঁরা জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এখানকার ব্যবসায়ীরা শুধু দোকান চালান না, তাঁরা গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে রপ্তানি বাজারে সোনার হরিণ খুঁজে আনেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনও কম যায় না। শতাব্দীপ্রাচীন কলেজ, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাকেন্দ্র—সব মিলিয়ে এটি এক জ্ঞানতীর্থ। এখানকার সংস্কৃতি যেন নদীর মতো—প্রবাহমান, প্রাণবন্ত। বাউল, ভাটিয়ালি, গাজীর গান, আর লোককথার ঝাঁপি খুললেই বেরিয়ে আসে এক অনন্ত ঐতিহ্যের গল্প। এই জেলার সাহিত্যিক ঐতিহ্যও অনন্য—নোয়াখালীর ভাষা, ছন্দ, আর গল্পে আছে একধরনের মাটির গন্ধ, যা হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তবু কেন নোয়াখালী এখনো বিভাগ নয়?
যদি অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর কথা বলি, নোয়াখালী তার অবদান দিয়ে ঢাকাকে চমকে দিয়েছে। যদি জনসংখ্যার ঘনত্ব দেখি, নোয়াখালী এক বিশাল জনপদ। যদি প্রশাসনিক কার্যকারিতা চাই, এখানকার মানুষ শৃঙ্খলা ও সহযোগিতায় অনন্য। তাহলে কেন এই জেলা এখনো বিভাগ নয়?
একটি বিভাগ মানে শুধু প্রশাসনিক সুবিধা নয়, এটি মানে আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি। এটি মানে—একটি অঞ্চলের মানুষকে বলা, “তোমরা গুরুত্বপূর্ণ, তোমাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়েছে।” নোয়াখালী বিভাগ হলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন হবে আরও গতিশীল, মানুষের সেবা হবে আরও সহজ, আর জাতীয় অগ্রযাত্রায় যুক্ত হবে এক নতুন অধ্যায়।
নোয়াখালী বিভাগ হোক—এটি সময়ের দাবি, জনগণের আকাঙ্ক্ষা, আর ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। এটি হবে একটি ন্যায়বিচার, একটি সম্মাননা, একটি প্রাপ্যতা পূরণ।
কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের বিনীত নিবেদন—“যার যা প্রাপ্য, তা তাকে দিতে হয়।” নোয়াখালী তার প্রাপ্য প্রমাণ করেছে বারবার। এই জেলার মানুষ শুধু দাবি করেন না, তাঁরা প্রমাণ দেন। তাঁরা শুধু স্বপ্ন দেখেন না, তাঁরা বাস্তব গড়েন।
নোয়াখালী বিভাগ হোক, এটি হবে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, একটি সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি, একটি প্রশাসনিক প্রজ্ঞা।
লেখক : সিনিয়র এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.