মোংলায় এক উঠানে নয় মরদেহ। মরদেহের খবরে ছুটে এসেছেন আত্মীয়স্বজন ও নিকট-দূর প্রতিবেশীরাও। সবার কান্নায় পৌর শহরের সাত্তার লেনের বাড়িটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার ছেলে, মেয়ে, পূত্রবধু ও নাতি-নাতনিরর মরদেহ এখন সাত্তার লেনের বাড়িতে। জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পৌর কবরস্থানে একে একে দাফন করা হবে তাদের।
এর আগে গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে মরদেহ এসে পৌঁছায় মোংলায় নিহত রাজ্জাকের বাড়িতে। আর গভীর রাতে খুলনার কয়রায় পৌঁছায় রাজ্জাকের নববধূ ও তার বোন, নানি এবং দাদির মরদেহ। একই রাতে বাগেরহাটের রামপালের সিঙ্গেরবুনিয়ায় পৌঁছায় মাইক্রোবাস চালক নাঈমের মরদেহ। নাঈমের মরদেহ জানাজা শুক্রবার বেলা ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়।
বিয়ের আনন্দ শোক হয়ে নেমে এলো সড়কে
নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল হোসেন রনি বলেন, রাজ্জাক ভাই আমাদের দলের লোক। ছেলেকে বিয়ে করিয়ে বধূ নিয়ে ফেরার পথে সবাই মারা গেছে। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়ার মতো নয়। এত বড় ট্র্যাজেডি এর আগে আর মোংলায় ঘটেনি।
নিহত বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমার ভাইয়ের পরিবারের ১২ জনের মধ্যে ৯ জন মারা গেল। বাকি আছে আমার ভাবি ও দুই ভাইপো। ভাইপো একজন বাড়িতে তার মায়ের কাছে আছে, আরেকজন খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।