মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের বহিষ্কৃত সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনের প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা বলেন, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বরে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার মাধ্যমে এমপিও প্যাটার্নের বাইরে নন-এমপিও ভিত্তিতে বিপাশা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংসদ সদস্যের প্রভাবে তাকে নন-এমপিও হিসেবে স্কুলে স্থায়ী করা হয়। কিন্তু চাকরিকালে নানা অভিযোগে তাকে একাধিকবার শোকজ করা হলেও তিনি শোধরাননি। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সহিংস আচরণ, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু স্কুল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে নানা বিষোদগার করছেন বিপাশা ইয়াসমিন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নামে-বেনামে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ (মাউশি) বিভিন্ন দপ্তরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিপাশা ইয়াসমিন অভিযোগ দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে শিক্ষকদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিয়োগের পর থেকেই বিপাশা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন। তবে অভ্যন্তরীণ তদন্তসহ মাউশি এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন দফা তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিপাশা ইয়াসমিনের অপপ্রচার ও হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, একজন বহিষ্কৃত শিক্ষকের লাগাতার অপপ্রচারে আমরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শিক্ষা পরিবেশ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ, প্রভাতি শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানাসহ প্রমুখ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন