গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণের পর ভবন ধসে নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই ভাই বোন ও তাদের জীবনসঙ্গী। এর মধ্যে এক নবদম্পতিও ছিলেন, যারা মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে গ্রিসে এসেছিলেন।
শুক্রবার সকালে লিসিক্রাতুস সড়কে বিস্ফোরণের পর দুইতলা ভবনটি ধসে পড়ে। এরপর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু করে গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির প্রথমতলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় অবস্থান করছিলেন চারজন। তারা ছিলেন দুই ভাইবোন ও তাদের জীবনসঙ্গী। তাদের মধ্যে ফ্লোরিন্ডা হোজা ও তার স্বামী ইয়ান আলেকজান্ডার কার্কপ্যাট্রিক মধুচন্দ্রিমা উদযাপনের জন্য গ্রিসে এসেছিলেন।
নিহত অপর দম্পতি হলেন এরিস চানি ও তার স্বামী ফ্লোরিন হোজা। নিহত এই চারজনই মার্কিন নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন আরও দুইজন। তারা হলেন ৭৮ বছর বয়সী আথিনা পাপারেস্কু, যিনি গ্রিক নাগরিক এবং তার ৭৭ বছর বয়সী স্বামী এডমন্ড হিংস, যিনি ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। ফলে দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন মার্কিন, একজন গ্রিক এবং একজন ব্রিটিশ নাগরিক।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান শনিবার পর্যন্ত চলে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা বিশেষ শব্দ শনাক্তকারী জিওফোন ও ক্যামেরা ব্যবহার করেন। অভিযানে বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরও অংশ নেয়।
শনিবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে সর্বশেষ দুইটি মরদেহ উদ্ধার করেন। এর মধ্য দিয়ে নিখোঁজ ছয়জনের সবাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
বিস্ফোরণের পর ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি ভবন ও পার্ক করা যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশের একটি ভবন থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের লিকেজের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বিস্ফোরণ ও ভবন ধসের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এথেন্সের প্রধান পর্যটকপ্রিয় স্থান অ্যাক্রোপলিসের পাশের ঐতিহাসিক প্লাকা এথেন্সের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা। বিশ্বখ্যাত অ্যাক্রোপলিস দেখতে ২০২৫ সালে প্রায় ৪৬ লাখ পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। ফলে ঘটনাস্থলটি গ্রিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকার অংশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.