ভারতে হঠাৎ করেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। তাই সংক্রমণ এড়াতে দেশের সব নৌ, স্থল ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারতসহ বিভিন্ন সংক্রমিত দেশ থেকে আগত সন্দেহজনক যাত্রীদের দেশের স্থল, নৌ বন্দর ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর হেলথ ডেস্কের সহায়তার বিষয়ে স্বাস্থ্য বার্তা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবিড়ভাবে পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জনের পিসিআর ল্যাব টেস্টে দুজনের দেহে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারাও গেছেন। তাই পবিত্র ঈদুল আজহার পর ট্রেনের ফিরতি যাত্রায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি কভিড-১৯ সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাস্ক পরার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঈদ-পরবর্তী ট্রেনযাত্রায় সব যাত্রীকে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
এরই মধ্যে ৪ জুন রোগ নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীর পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সন্দেহজনক যাত্রীদের স্থল, নৌবন্দর এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর হেলথ ডেস্কের সহায়তার বিষয়ে স্বাস্থ্য বার্তা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৭৮ জন। এতে করে ভারতজুড়ে বর্তমানে ছয় হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন।
এদিকে গতকাল সকাল ১০টার দিকে সরজমিনে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে দেখা গেছে, মেডিকেল ডেস্কে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কর্মকর্তাদের ভারত থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের করোনার উপসর্গ আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করছেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ভারতে জেনেটিক সিকোয়েন্স পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, দেশটির কিছু স্থানে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে করোনার এ নতুন ধরনটি যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সতর্কতার জন্য ভারত ফেরত প্রত্যেক যাত্রীকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এপ্রিলে দেশে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু মে মাসে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ জনে। এমন অবস্থায় আবারো মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ এড়াতে আবারো সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।