আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ শাহ আলম দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পেলেও মূলত তিনি স্বনামধন্য একজন আইনজীবী। বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন শিল্প উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী। তার প্রতিষ্ঠিত ম্যাটাডোর গ্রুপে প্রায় ৪ হাজার কর্মচারী এবং কর্মকর্তা জীবিকা নির্বাহ করছেন। সকল চাকরিজীবীদের যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ১৯৮০ সালে ম্যাটাডোর পেন দিয়ে ব্যবসায়িক জগতে পা রেখে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ম্যাটাডোর গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ হিসাবে বর্তমানে দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান।
স্টেশনারি, ব্যক্তিগত যত্ন পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রী, বিনোদন এবং স্বাস্থ্যসেবা বা হাসপাতাল সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বলতে গেলে ব্যবসা ক্ষেত্রে তিনি অভূত পূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। পুরান ঢাকায় এক কৃতি সন্তান শাহ আলম উকিল নামে পরিচিত। এলাকায় গরীব দুঃখীদের আইনি সেবা সহ আর্থিকভাবে সাহায্য দেওয়ায় পুরান ঢাকায় দানবীর হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তবে তিনি দান করার ক্ষেত্রে ছিলেন প্রচার বিমুখ।
গণমাধ্যম বা নিউজ মিডিয়া থেকে দূরে থাকতেন। তিনি বলেন “ আমি আমার জানামতে এলাকাবাসী ও আমার স্বজনদের মঙ্গল ছাড়া অমঙ্গল কামনা করিনি। সাধ্যমত চেষ্টা করছি এলাকাবাসীর জন্য ভালো কিছু করে যেথে। আমি যা করতে পারিনি আমার সন্তানেরা তা করবে এটাই আল্লাহ্র কাছে দোয়া কামনা করছি। আপনারা সবাই আমার ও আমার সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন।” এলাকার বয়জষ্ঠ মানুষ হিসেবে হাজারীবাগ লালবাগ এলাকায় সর্বত্র শ্রদ্ধাভাজন ম্যাটাডোরের চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহ আলম। তিনি রফিকুল ইসলাম মোল্লা মাদ্রাসা এবং মসজিদ কমপ্লেক্স করেছেন প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে।
হাজারীবাগ বোরহানপুর জামে মসজিদ সৌদি আদলে নির্মাণ করেছেন। এই মসজিদের নির্মাণ শৈলী দেখে সবাই মুগ্ধ হন। কাজিরবাগ মসজিদ এবং মাদ্রাসা, আজিম উদ্দিন হুজুরের এতিম খানা, ম্যাটাডোর স্টাফ কোয়াটার মসজিদ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জ জয় সারা চৌধুরী বাড়ি মসজিদ-মাদ্রাসা সহ এতিমখানায় আমি আমার সাধ্যমত দান করেছি।
তিনি বলেন, ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণে আমি নিজ থেকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছি। সিলেট হবিগঞ্জ জেলায় নির্মিত একটি মসজিদ ছাড়াও সারা বাংলাদেশের শত শত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদে আর্থিক অনুদান ও অবদান রয়েছে। তার জীবনে অনেক কাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় হিসেবে মনে করেন অসচ্ছল মানুষকে পবিত্র হজ পালন করিয়েছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের পড়ুয়া সন্তানদের আর্থিক সহায়তা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে সহায়তা করেন। এছাড়াও এলাকায় ম্যাটাডোর হাসপতাাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে তার অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “ আমি একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। আমি সরাসরি কোন দলের সমর্থন করিনা। আমার সন্তানেরাও তাই। কর্মজীবনের শুরুতেই স্বাভাবিকভাবে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে গেছি। তাই আমি আমার সন্তানদেরকে মানুষ করার চেষ্টা করছি। আমি মানুষের জন্য যা করেছি তা সবই দৃশ্যমান সেখানে আমি আমার মূল্যায়ন করবো কিভাবে? এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আপনারাই আমার মূল্যায়ন করবেন।
আমার এক ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান। আমার আরেক ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এলাকার স্কুল এবং মসজিদের সভাপতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ছোট ছেলে সাগীরুল আলম একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ হিতৈষী। আমার ছেলেরা আমার মত সমাজ সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা সহ গরিব-দুঃখী মেহনতী মানুষের সর্বক্ষেত্রেই পাশে থাকে। বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় কোনায় দানবীর শাহ আলমের মত এমন জনদরদী ও সামজসেবক জন্ম নিয়ে দেশ ও কল্যাণের ব্রত হয়ে এমনটাই আশা মুসলিম উম্মার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.