হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং এ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা কমছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট)ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ১০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৮২ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি তেহরানে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌপথ চালুর সম্ভাবনা এবং উত্তেজনা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরান শর্ত নির্ধারণ করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, এরপর প্রণালি খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও তা এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন ১৭টি জাহাজ চলাচল করেছিল।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বাড়ার চাপ দেখা দিতে পারে। বিপরীতে, নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসে।
তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেছে—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটার বিষয়টিও অনিশ্চিত। ফলে তেলের বাজারে সাম্প্রতিক দরপতন অব্যাহত থাকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা