শর্তহীন সম্মতি
————————————
অন্তরেতে প্রেমের উদাস,
শর্তহীন সম্মতির কাল।
তুমি হাত বাড়িয়েছিলে শুধু,
আমি সঁপেছিলাম মন।
শ্বাসের সিলমোহর ছুঁয়েছিল
আমাদের হৃদয় ও প্রাণ।
চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম তখন,
আবদ্ধ আজ দুই ভুবন।
তোমার একটু হাসির বিনিময়ে
বন্ধক রেখেছিলাম এই জীবন,
আজও এ হৃদয়ে রয়ে গেছে,
সেই চিরন্তন প্রেম-বন্ধন।
সময়ের স্রোতে যদি মুছে যায়
সব চেনা পৃথিবীর রূপ,
আমাদের প্রেম তবু রবে জেগে
হয়ে এক অনন্ত নিশ্চুপ।
হারাবে না কভু এই চেনা টান,
যদি ফুরিয়েও যায় এ জীবন।
তুমি রয়ে যাবে মোর শেষ খেয়ায়,
আমার চিরন্তন আপন।
হৃদয় স্টেশনে থমকে থাকা সময়
————————————
তোমার সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর অভিমান করে
আমি তোমাকে লিখিনি বহু দিন,
অথচ প্রতিটি নীরবতা ছিল এক একটি অসমাপ্ত চিঠি
হৃদয়ের নির্জন কোনো স্টেশনে থেমে থাকা
বিবর্ণ কোনো ট্রেনের মতো
যার গন্তব্য জানা ছিল, কিন্তু পথ ছিল কুয়াশায় ঢাকা।
তোমাকে ভাবতে ভাবতে
যে শব্দগুলো ঠোঁটের কিনারে এসে ফিরে গেছে
তারা মরেনি…
তারা এখন আমার বুকের ভেতর সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে,
নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দেখছে এক যুগ পাষাণ প্রতিমার মতো
যেন জমাট বাঁধা মেঘে বিদীর্ণ এক নীল আকাশ।
কাগজের সাদা জমিনে কলম চলেনি সত্য,
কিন্তু নীল কষ্টের কালিতে কতবার যে লিখেছি তোমার নাম!
সত্যি! ঈশ্বরের দোহাই,
আজও আমি তোমাকে ভালোবাসি!
আমি তোমাকে মুক্তি দিইনি কোনোদিন,
তুমি আমার না-বলা গল্পের ভাঁজে আজও বন্দি।
হয়তোবা পরজন্মে কোনো এক চেনা ঠিকানায়,
আবার হবে দেখা…
অসমাপ্ত সেই চিঠির শেষ পূর্ণচ্ছেদ হয়ে।