গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে বসেছেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ফোন দেখতে বা অন্য কাজে মন দিতে ইচ্ছা করছে? এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই হয়। একের পর এক নোটিফিকেশন, মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব। পড়াশোনা ও গভীর মনোযোগের কাজে নিয়মিত ছন্দে ফিরতে এবং বছরের শেষ কয়েক মাসকে কাজে লাগাতে কীভাবে একাগ্রতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কতক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারা স্বাভাবিক?
সুস্থ মনোযোগ ও একাগ্রতা বলতে শুধু সারাদিন নিখুঁতভাবে কাজে মনোযোগ ধরে রাখাকে বোঝায় না। করপোরেট সুস্থতা পরামর্শক ও প্রশিক্ষক এরিন ক্লিফোর্ড বলেন, ‘এর অর্থ হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারা, যুক্তিসংগত সময় ধরে কোনো কাজ বা কথোপকথনে মনোযোগ ধরে রাখা, মন অন্যদিকে চলে যাচ্ছে কি না তা বুঝতে পারা এবং আবার কাজে মন ফেরানো।’
তিনি আরও বলেন, মাঝখানে বিরতি নেওয়া বা কোনো কারণে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটলেও যেন কাজের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি হারিয়ে না যায়। তবে কতক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা কাজের ধরন, পরিবেশ এবং ব্যক্তি কতটা বিশ্রাম পেয়েছেন বা মানসিক চাপে আছেন, তার ওপর নির্ভর করে।
যেসব অভ্যাস মনোযোগ নষ্ট করতে পারে:
মনোবিজ্ঞানী মিচেলের মতে, অবসর সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত ফোন বা অন্য কাজে ব্যয় করলে মস্তিষ্ক একঘেয়েমি সহ্য করতে ভুলে যায়। অথচ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে গেলেও কিছু একঘেয়ে মুহূর্ত আসে। কাজ বিরক্তিকর লাগলে বার্তা দেখা বা ই-মেইল খোলার মতো অন্য কাজে মন দেওয়াও মনোযোগ নষ্ট করে। মিচেলের মতে, এভাবে অস্বস্তি এড়াতে থাকলে মস্তিষ্ক শিখে যায়, অস্বস্তি হলেই কাজ থামিয়ে দিতে হবে।
অন্যদিকে ক্লিফোর্ডের মতে, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত ব্যস্ত সময়সূচি-সবই মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।
মনোযোগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন:
কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়, এমন পরিবেশ তৈরি করলে উপকার পাওয়া যায়। ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী ও এক্সিকিউটিভ কোচ অ্যান ওয়েলশের পরামর্শ, মনোযোগ বাড়াতে ফোন অন্য ঘরে রাখুন, ই-মেইল অ্যাপ বন্ধ করুন এবং কাজের সময় ঠিক করতে টাইমার ব্যবহার করুন।
তিনি বলেন, ‘যেসব জিনিস আমাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয়, সেগুলো ব্যবহার করতে যত বেশি ঝামেলা হবে, সেগুলো ব্যবহার করার সম্ভাবনাও তত কমবে।’
মনের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় চিন্তার চাপ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েলশ পরামর্শ দেন, মাথায় ঘুরতে থাকা কাজের তালিকা, বাজারের তালিকা কিংবা অন্যান্য চিন্তা কাগজে লিখে রাখুন। তিনি বলেন, ‘কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় মস্তিষ্কে যত কম অতিরিক্ত বিষয় ধরে রাখতে হবে, মনোযোগ দেওয়া তত সহজ হবে।’
মনোযোগ বাড়াতে অনুশীলন করুন:
মনোযোগ বাড়াতে শুরুতে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মতো ছোট সময় ধরে কাজ করুন। ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী অ্যান ওয়েলশের মতে, ছোট লক্ষ্য পূরণে সাফল্যের অনুভূতি তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কাজের সময় ফোন দেখতে বা অন্য কাজে যেতে ইচ্ছা করলে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া না দিয়ে আরও এক মিনিট কাজ চালিয়ে যান। পরে ধীরে ধীরে এই সময় বাড়ান।
মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন মনোযোগের চর্চাও সহায়ক। কাজের সময় মন অন্যদিকে চলে গেলে নিজেকে দোষারোপ না করে আবার কাজে মন দিন। নিয়মিত অনুশীলনে এভাবে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়ে উঠবে।
সূত্র: রিয়েল সিম্পল
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.