বাবাকে নিয়ে নিজ ফেইসবুক আইডিতে আবেগঘন স্টাটাস দিয়েছেন এনবিআর সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী। বাবাকে নিয়ে আন্তরিক গভীরতার অনুভুতি প্রকাশে তিনি বলেন,আব্বার ব্যক্তিত্বের বৃত্ত বরাবরই আবৃত, আমাদের দুর্ভেদ্য! শ্রদ্ধা, শংকা, সমীহের বলে! তিন দশক ডাক কর্মচারীদের নেতৃত্ব ও বিচার করেছেন । রাশভারী, মিতভাষী, দৃঢ়চেতা হয়েও আমৃত্যু ছিলেন অজাতশত্রু। মানুষ এখনও যাঁকে মনে করে।
এক ঘন্টা কথা শুনে দু’বাক্যে আনকোরা সিদ্ধান্ত! সত্তুর আশির দশকের সিবিএ নেতা, মন্ত্রীদের সমীহে ছিলেন। কর্মজীবনে নয় জন প্রধানমন্ত্রী ও পাঁচজন রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতে গেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বর্ণিল ডাকবিভাগ গঠন, সরকারী কর্মচারীদের জীবন মান উন্নয়ন ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির দেনদরবারে সামনে থেকে ভুমিকা রাখেন। মহার্ঘভাতা, বৈশাখিভাতা, এক ঈদের পাশাপাশি দুই ঈদে বোনাসের ধারণা ও আদায়ের আন্দোলন আব্বার নেতৃত্বে ডাক বিভাগ থেকে শুরু হয়েছিল। আইএলও-কে সাথে নিয়ে কর্মশালা করে ও কৌশলে বহু দাবী আদায় করেছেন।
নিজ কৃতিত্ব অন্যকে দিতেন। বৈচিত্র্যময় কর্মকাল, জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল চড়াইউৎরাই পাঁচ দশক আড়ালে রেখেছেন। করোনা আক্রান্তির একাকীত্বের ঘোরে কিছু কীর্তির স্মৃতি অনাবৃত করেছেন। বহু প্রশ্নের জবাব ‘পরে’ বলে অন্তরায়িত রেখে গেছেন।
আব্বা নেই! আছেন তাঁর সহস্র শুভানুধ্যায়ী ও পরিবার! তারা আসেন, খোঁজ নেন, আমাদের অশ্রুসিক্ত অভিবাদন, দোয়া দেন। আমৃত্যু আব্বার আদর আগ্রহের আতিশয্যে এ আপনজনেরা! আপনের পরিধি বিস্তৃত পোষ্য, পরিবার, প্রতিবেশী, পরিজন, সতীর্থ, সহকর্মী ও সজ্জনে! ডাক বিভাগের বিয়াল্লিশ হাজার কর্মচারী তাঁর পরিবার! অন্যের সন্তানের অর্জনে সমান খুশী! অন্যকে সুখী, সহাস্য দেখার বিরল সম্মিলন আমার পিতামাতায়। খুশীর পরম্পরার উত্তরাধিকার সংক্রমণে আজ আমরাও গর্বিত।
আমার গর্বের পিতা! দু’বছর হয়ে গেল তাঁর রাজসিক প্রস্থানের। ভালো মানুষরা কবরেও ভালো থাকেন। কৃতজ্ঞতা, অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীকে। যাঁরা আব্বার জন্য দোয়া করছেন। আজ সকালে তাঁর কবর জিয়ারত সমাগমে ছিলেন। খুশী বিতরণের পরমানন্দ প্রত্যেক পরিবারে সংক্রমিত হোক।
আব্বা মা’র জন্য সবার দোয়া চাইছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.