লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের ক্ষত নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ। নারী হ্যান্ডবল দলের জন্য ওটাই এখন সবচেয়ে বড় তাড়না। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে এবার কি পারবে ক্ষত মুছতে, নাকি আরেকটি ধাক্কা আসন্ন!
ফাইনালের প্রস্তুতিতে গতকাল অনুশীলনের কেন্দ্রে ছিল দুটি বিষয়—ভারতের বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণ রুখে দেওয়া, আর বলের দখল আঁকড়ে রাখা। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার ব্যাখ্যা সরল, ‘আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট গতি ধরে রাখতে পেরেছিল, আর ফাস্ট ব্রেকে ছুটে আসা আক্রমণ থামাতে পারেনি বাংলাদেশ।’ তাই এই কোচের মূলমন্ত্র, ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।
ভারতকে আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মানলেও আশা ছাড়েননি স্প্যানিশ কোচ আলোনসো। তার দৃঢ় বিশ্বাস, আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো খেলা সম্ভব, আর সেরাটা দিতে পারলে সমানতালে লড়াইও অসম্ভব নয়। সে লক্ষ্যেই তিনি আরও ভালো খেলা এবং নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথা বলছেন।
এমন লড়াইয়ে অবশ্য শুধু মনোবল যথেষ্ট নয়। আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমানো, পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখা, এই দুই শর্তেই কোচ দেখছেন ভালো ফলের সম্ভাবনা। ম্যাচজুড়ে একাগ্রতা হারালে ব্যবধান আবারও বড় হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। একই সঙ্গে স্বীকার করছেন, এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থায়ী করতে দরকার আরও অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড়দের সুরও একই। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’ জয়ের প্রতিশ্রুতি নেই এই হ্যান্ডবলারের কণ্ঠে; আছে সবাই মিলে সেরাটা চেষ্টা করার অঙ্গীকার। গোলের ব্যবধান আগের চেয়ে কমাতে পারলেই কিছু একটা করে দেখানো যাবে, এই আশা তার।
দলের আরেক সদস্য আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত ঝলকের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ের ওপরই ভরসা রাখছেন। ফাইনালে তাই চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী—ভারতের আক্রমণ ঠেকানো, আর আগের ম্যাচের ভুল ঝেড়ে ফেলা। প্রতিশোধের স্বপ্ন যতই মধুর হোক, কাল আসল পরীক্ষা ধৈর্যের, মনোযোগের, আর ৬০ মিনিটের অবিচল লড়াইয়ের।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.