1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

বরই চাষে কোটি টাকার স্বপ্ন পূরণ মাস্টার্স পাস মাহবুবের

উপজেলা প্রতিনিধি | বেনাপোল (যশোর) |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৭০ বার পঠিত

দেশে এখন রবি শস্যের পাশাপাশি অধিক লাভের ফলচাষ বাড়ছে। যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে পুষ্টিতে ভরা রসালো ফল বরই চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাড়ছে কর্মসংস্থান। সৃষ্টি হচ্ছে উদ্যোক্তা। লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা আপেল কুল, বাউকুল, থাইকুল ও ঢাকা-৯০ কুলসহ কয়েকটি জাতের বরই চাষ করেন তারা। মাত্র চার থেকে ৬ মাসেই কোটি টাকার বরই ফলনে জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। আধুনিক মানের বরই চাষে নতুন ওষুধ উৎপাদনসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন উদ্যোক্তাসহ স্থানীয় চাষীরা।

যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলার মাহবুবুর রহমান। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে ভুগছিলেন হতাশায়। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে ৫ বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে শুরু করেন থাই, বল, আপেল ও নাসরিন নামের উন্নত জাতের বরই চাষ। আট মাসের মধ্যেই হয় ফলন। দশ বছর ধরে ফলন হয় এসব গাছে। বিঘায় দুই লাখ টাকা খরচে পাওয়া যায় পাঁচ লাখ টাকা। অল্প সময়ে স্বল্প খরচেই লাভ আসে ভালো। মাহবুবুর রহমান বর্তমানে ৩০ বিঘা জমিতে বরই চাষ করেছেন। অর্ধশত শ্রমিকের হচ্ছে কর্মসংস্থান। ফলন ও দাম পাচ্ছেন ভালো। বেশি লাভের আশা করেন উদ্যোক্তা মাহবুবুর রহমান।

যশোরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে সুমিষ্ট পুষ্টিতে ভরা রসালো ফল বরই চাষ। এই বাগানে কাজ করে অনেকেই ভালো উপার্জন করছেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে মাসে ১৫ হাজার টাকা পান একেকজন। পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতা। সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের দিন কাটছে বলে জানান শ্রমিক রাকীব আহম্মেদ ও কৃষক উমর হোসেন। স্থানীয়রা জানান বরই চাষে বেশি লাভ হওয়ায় আগামীতে চাষ বাড়ানোর আশা করেন।

বরই ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান জানান, যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ টাকা হতে ১১০ টাকা কেজি দরে বরই কিনে দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন তারা। বরইয়ের চাহিদা বাড়ছে। এতে চাষীদের সঙ্গে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।

কৃষি অধিদপ্তর জানায়, পুরো শার্শা উপজেলা জুড়ে বরইচাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বেনাপোল, বাগআঁচড়া, উলাশি, শার্শা ও কায়বা ইউনিয়নে। ৪-৬ মাসে ফলন ওঠে ঘরে। অক্টোবরের শেষে বরই তোলা শুরু হয়। চলে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

শার্শার পিঁপড়াগাছি গ্রামের ছেলে কৃষক মাহাবুবুর রহমান (৪৫) বরইচাষ করেই জীবন-জীবিকার অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে মাহাবুর এখন দুইটি বাগানের মালিক। গোটা বাগানজুড়ে বাউকুল, আপেলকুল ও নারকেলকুলের ভারে স্বল্প উচ্চতার গাছগুলো নুইয়ে পড়ছে মাটিতে।

বরই চাষী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মূলত এ পেশা বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য, সবাই লেখাপড়া করে চাকরির পেছনে ছোটে। আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে এই বরই চাষের দিকে এগিয়ে যাই। ছোটবেলা থেকে আমার শখ একজন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। প্রথম বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বরই চাষ করি। সেখানে কিছু ইনভেস্ট করি। প্রথম বছরে আমি দ্বিগুণ লাভ করি। সেখান থেকে আমার কৃষির প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে বাগান বাড়িয়ে এখন ৩০/৩৫ বিঘা জমিতে বরই চাষ করছি। আমার বাগানে ৪০/৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। সবাইকে নিয়ে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। আর যারা শ্রমিক আছে তাদেরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বরই চাষে আমি এবং আমার এখানে যারা কাজ করেন সবাই খুব খুশি।’

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় বরইয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা হচ্ছেন লাভবান। বরই চাষে সব ধরনের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তর। আগামীতে এ উপজেলায় বরই চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর