দিল্লির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে প্লেনের ভেতর থেকেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ এবং দলের দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই তাদের আটক করা হয়।
সিজেপির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা নামার আগেই পুলিশ সদস্যরা সিঁড়ি দিয়ে প্লেনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এ সময় দলের নেতাদের পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে এবং স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন তারা।
সিজেপির অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তারা দিল্লিতে অবতরণ করেছেন, কিন্তু পুলিশ প্লেনের ভেতর থেকেই তাদের আটক করতে এসেছে।
পুলিশ সদস্যরা প্লেনের ভেতরে ঢুকে নেতাদের আসনের দিকে এগিয়ে গেলে অভিজিৎ দীপকে ও তার সঙ্গীরা ‘ভারতমাতা কি জয়’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকেন।
ভিডিওতে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাকে আটক করতে এলে তিনি প্রস্তুত। তবে তাদের কারণে প্লেনের অন্য যাত্রীরা অসুবিধায় পড়ছেন।
আরেকটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, তারা নেতাদের গ্রেফতার করছেন না। একই সঙ্গে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছিল।
আটকের প্রতিবাদ সিজেপির:
দলের তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিজেপি। এক বিবৃতিতে দলটি এই পদক্ষেপকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ বলে উল্লেখ করেছে।
সিজেপির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই আটক করা হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই দলের নেতৃত্বকে নিষ্ক্রিয় করা যায়।
বিবৃতিতে দলটি আরও বলেছে, এ ঘটনা চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আটক তিন নেতাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
তবে পুলিশ কেন তাদের প্লেনের ভেতর থেকে আটক করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ধ্রুব রাঠীসহ আরও অনেকে আটক:
সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়া আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে শনিবার আটক করা হয়েছে।
সম্প্রতি জার্মানি থেকে ভারতে গেছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। তিনি দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই তার বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ধ্রুব রাঠীকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি সেই নির্দেশ মানতে রাজি না হওয়ায় তাকে আটক করা হয়।
এর কয়েক মিনিট পর ধৌলা কুয়ান এলাকা থেকে আটক করা হয় কনটেন্ট নির্মাতা কাব্য কর্ণাটককে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি ‘KK.Create’ নামে পরিচিত।
পিনারাই বিজয়নসহ সিপিআই(এম) নেতাদের আটক
কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিপিআই(এম)। দলের দাবি অনুযায়ী, বিজয়নের সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাত।
এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের একটি দল রাতভর দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার বাইরে অবস্থান করেছিল। সেখান থেকেও ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.