প্রেমিকার সঙ্গে হুট করেই সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন। কথা নেই-দেখা নেই এমনকি আপনাকে খুঁজে পাওয়ারও কোনো উপায় রাখলেন না। যেন সেই মানুষটার জীবন থেকে গায়েব হয়ে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন শুধু প্রেমিকা বা প্রেমিক নয়, বন্ধুদের সঙ্গেও এমনটা করেন।
কেউ আপনার সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উধাও হয়ে গেলে, বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন। এই বিষয়টিকে বলা হয় ‘গোস্টিং’। এমন পরিস্থিতিতে আপনি বিভ্রান্ত, হতবাক ও ক্ষুব্ধ হতে পারেন। এমনকি নিজের কোনো ভুল ছিল কি না, তা ভেবেও নিজেকে দোষারোপ করতে পারেন। অন্যদিকে যিনি গোস্টিং করেছেন, তিনি হয়তো দিব্যি নিজের জীবন উপভোগ করছেন-এমনটা মনে হওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু গোস্টিং করার পর সেই ব্যক্তিও কি অনুশোচনায় ভুগতে পারেন?
গোস্টিং করার পর অনেকেই অনুশোচনায় ভোগেন
পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গোস্টিং করার পর অনেকেই অপরাধবোধ, লজ্জা ও অনুশোচনায় ভোগেন। কারো কারো মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণও দেখা যায়। গবেষণায় তিনটি ধাপে অংশগ্রহণকারীদের গোস্টিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, কাল্পনিক পরিস্থিতি ও সরাসরি কথোপকথনের সময় অনুভূতি যাচাই করা হয়। তিনটি পর্যায়ের ফলাফলেই একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির হাস স্কুল অব বিজনেসের গবেষক সোফিয়া লি ও জুলিয়ানা শ্রোডার এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের জাজ বিজনেস স্কুলের গবেষক কোরাল ঝেং এ গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের পর্যবেক্ষণ, গোস্টিং করার পর অনেকেই নিজেদের আচরণ নিয়ে অপরাধবোধ, লজ্জা ও অনুশোচনায় ভোগেন।
গোস্টেড ব্যক্তিরা অন্য পক্ষের কষ্ট কম করে দেখেন
গবেষণায় দেখা গেছে, গোস্টেড হওয়া ব্যক্তিরা মনে করেন, যিনি যোগাযোগ বন্ধ করেছেন, তার এ নিয়ে তেমন খারাপ লাগছে না। অন্যদিকে, যারা নিজেদের আচরণকে গোস্টিং বলে মনে করেন না বা যোগাযোগ বন্ধ করার আগে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন, তাদের অপরাধবোধ কম হতে পারে।
তবে গবেষণাটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জানানো অনুভূতি সব সময় প্রকৃত অনুভূতির সঙ্গে নাও মিলতে পারে। তাই বাস্তব জীবনে সবাই গোস্টিংয়ের পর একই রকম অনুভব করেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আবার একই ব্যক্তি ভিন্ন মানুষের সঙ্গে গোস্টিং করার পর ভিন্ন অনুভূতি পেতে পারেন।
যারা গোস্টিং করেন, তাদের কী শেখার আছে?
আপনি যদি কারো সঙ্গে গোস্টিং করার কথা ভাবেন, তাহলে গবেষণার ফলাফল আপনার জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে সব সময় কোনো পরিণতি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন, এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা বা সহমর্মিতা থাকলে গোস্টিং করার পর আপনারও খারাপ লাগতে পারে। কঠিন কোনো কথোপকথন এড়িয়ে যাওয়ার মতো সাময়িক সুবিধার চেয়ে এই অনুশোচনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই কাউকে ঘোস্টিং করার আগে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবুন।
আপনার এই আচরণ ভবিষ্যতেও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ, যার সঙ্গে গোস্টিং করেছেন, তার সঙ্গে আবার কখন দেখা হয়ে যাবে, তা কেউ জানে না। কোনো সম্পর্ক কীভাবে শুরু করেছেন, তার চেয়ে কীভাবে শেষ করেছেন, তা অনেক সময় আপনার আচরণের পরিচয় দেয়।
অতীতে কাউকে গোস্টিং করে থাকলে তাকে ক্ষমা চেয়ে একটি বার্তা পাঠানোর কথা ভাবতে পারেন। এতে দুজনের মধ্যকার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
গোস্টেড হলে কী করবেন?
সম্প্রতি গোস্টেড হয়ে থাকলে গবেষণার ফল আপনাকে সান্ত্বনা দিতে পারে। তবে আপনার সঙ্গে গোস্টিং করা ব্যক্তি অনুতপ্ত হচ্ছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তার মধ্যে আপনার প্রতি সহমর্মিতা বা সম্মানের অভাবও থাকতে পারে।
তাই তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা বা মানসিক স্বস্তি পাওয়ার অপেক্ষা না করে পরিস্থিতি মেনে নিন। তিনি অনুতপ্ত কি না, তার ওপর আপনার সুখ ও সামনে এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করা উচিত নয়। বরং ভাবুন, এমন একজনের কাছ থেকে দূরে সরে এসেছেন, যার সঙ্গে সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও কষ্টের কারণ হতে পারত।
গোস্টিং করা ব্যক্তি ফিরে এলে তাকে জীবনে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে ভাবুন। কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা না চেয়ে এমনভাবে ফিরে আসাকে ‘জম্বিইং’ বলে। আর আগের আচরণ অস্বীকার করে আপনাকে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্দেহে ফেলাকে বলা হয় ‘গোস্টলাইটিং’। কেউই নিজের আচরণের পরিণতি এড়াতে পারেন না।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.