নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের মধ্যে মোঃ আবদুর রাজ্জাক। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক জীবন, সকল ক্ষেত্রেই তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। এজন্য ব্যতিক্রমধর্মী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে জাপানের বিলাসী জীবন ছেড়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পণ্যগুলির মত বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবসায়ে নিজেকে যুক্ত করে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন শুরু থেকেই।
তিনি ১৯৮৯ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএসএস ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প পরিবার, জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অদম্য স্পৃহা, সততা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা, নিজের শিকড়কে ভুলে না যাওয়া এই বিষয়গুলো দারুনভাবে নিজের মধ্যে রপ্ত করেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই শিল্প উদ্যোক্তার।
জাপানে মেডিকেল পন্য উৎপাদন সেক্টরে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি উদ্যোক্তা হিসাবে যাত্রা শুরু করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে নিজের উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আকৃষ্ট করেন। বর্তমানে জনাব আব্দুর রাজ্জাকের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার কারনে জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও তুর্কির সাথে জেএমআই গ্রুপ অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
ব্যবসা কার্যক্রম ছাড়াও জনাব আব্দুর রাজ্জাক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকান্ডেও জড়িত। তার কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতাগুলির অংশ হিসেবে পথ শিশুদের উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন বিগত কয়েক বছর ধরেই। নিজ এলাকার গরীব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার কাছে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বিশেষ করে গর্ভকালীন সময়ে দুস্থ্য ও অসহায় মা এবং অনাগত শিশুর পুষ্টি যাতে সুষমভাবে পায় সে লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে কাজ করেন তিনি যা সর্বস্তরেই প্রশংসিত। জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তির স্লোগানকে সামনে ধরে প্রতিবছরেই তার নেতৃত্বে “বিশ্ব শান্তি দিবস” উদযাপন করা হয় যা কর্পোরেট ইতিহাসে বিরল। মানব সেবায় নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখতে পছন্দ করা এই গুণী মানুষটির মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টায় তৈরি “জেএমআই অটো ডিজেবল সিরিঞ্জ” এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে ০-১২ বছরের সকল শিশুদের টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় আনা হয় যা ২০০৭ সাল থেকে অদ্যবধি চলমান।
জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ১৯৯৯ সালে দক্ষিন কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সহযোগিতায় জেএমআই সিরিঞ্জ এবং মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানির পূর্বের নাম ছিল জেএমআই বাংলা কোম্পানি লিমিটেড। বর্তমানে জাপানের নিপ্রো কর্পোরেশন, একটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত চিকিৎসাযন্ত্র ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য প্রস্তুতকারকের সাথে একটি যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন যার মধ্যে নিপ্রো জেএমআই ফার্মা লিমিটেড অন্যতম। তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইউরোপিয়ান প্রযুক্তির সমন্বয়ে “জেএমআই এলপিজি” প্রকল্প হাতে নিয়েছেন যা ইতোমধ্যেই বাজারে সুনামের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
জনাব মোঃ আবদুর রাজ্জাক ১৯৬৪ সালে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার আজিজপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবা মৃত শফিউল্লাহ মাস্টার এবং মাতা মৃত মিসেস আনোয়ারা বেগম। শিক্ষক পিতার সন্তান এই সফল শিল্প উদ্যোক্তার মানবিক গুণাবলী সবার হৃদয়ে তার জায়গা করে দেয়।
জনাব রাজ্জাক তরুণ ও উদ্যমী ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয় কতৃক ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে “সিআইপি” মর্যাদা লাভ করেন।
জনাব মোঃ আবদুর রাজ্জাক স্বপ্ন দেখেন তিনি দেশের জন্য কাজ করে যাবেন আমৃত্যু। পরবর্তি প্রজন্ম যাতে সমৃদ্ধশালী এবং একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ পায় সেজন্য বর্তমান সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনাব রাজ্জাক নিজেকে সেদিনই সফল ভাবতে রাজি যেদিন বিশ্বের প্রতিটি দেশেই বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্য পাওয়া যাবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি ইউরোপসহ বিশ্বের ৩৫ টি দেশে ইতোমধ্যেই তার উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দিতে পেরেছেন। স্বপ্নবাজ এই গুণী মানুষটির বিশ্বের ৮২ টি দেশে ভ্রমনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার এই স্বল্প সময়ের ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে। এর মধ্যে দক্ষিন কোরিয়াতেই তিনি ৭০ এর বেশিবার ভ্রমন করেছেনে। বিশ্বের এতগুলো দেশে ভ্রমন করে তাঁর লব্ধ জ্ঞাণকেও তিনি স্বপ্নে রূপ দিয়েছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের প্রতিটি দেশেই একটি মিনি বাংলাদেশ থাকবে যেখানে অবস্থারত প্রবাসী বাঙালীরা বিভিন্ন তথ্য পাবেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের নাগরিকরা প্রিয় মাতৃভূমি সম্পর্কে জানবে যা আমাদের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করবে।
জনাব রাজ্জাক তার কর্মদক্ষতা দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল ডিভাইসেস এন্ড সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস মেনুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার; সদস্য, কার্যকরী কমিটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ফার্মাসিটিকাল ইন্ডাস্ট্রিজ ; সদস্য, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ; সদস্য, কোরিয়া- বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ; সদস্য, ভারত- বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ; সদস্য, রিহ্যাব এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা হিসাবে সক্রিয় আছেন।
তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ বাফেসাপ এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড,স্বাধীনতা সংসদ এ্যাওয়ার্ড সহ অনেক কৃতিত্বপূর্ন এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.