1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

নাশকতা প্রতিরোধে সরকার প্রস্তুতির কথা জানালেও জনমনে তীব্র আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮৫ বার পঠিত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ আজ নির্ধারণ হওয়ার কথা। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আজ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরে গত তিনদিন রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, পেট্রল বোমা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির সামনের সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়েও। কাছাকাছি সময়ে তেজগাঁও রেলস্টেশনে একটি পরিত্যক্ত বগিতে আগুন দেয়া হয়। সন্ধ্যায় দোলাইরপাড় মোড়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় একটি বাসে। গত কয়েকদিনে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনায় রাজধানীবাসীর মনে আতঙ্ক তীব্র হয়েছে।

যদিও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীসহ সারা দেশকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলার ঘোষণা এসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে। কিন্তু এতসব প্রস্তুতির পরও সাধারণ মানুষের মনের আতঙ্ক দূর করা যায়নি। রাজধানীর বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ অনলাইন ক্লাস নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের হোম অফিসের ব্যবস্থা নিয়েছে। সীমিত করে আনা হয়েছে বিদেশী ক্রেতাদের ফ্যাক্টরি ভিজিটের মতো নিয়মিত কার্যক্রম। এমন সহিংস পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ ও র‍্যাব। হাইকোর্ট মোড়, শাহবাগ, নিউ ইস্কাটন, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট দেখা গেছে। সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়ে তল্লাশির পর যাত্রীদের করা হয় বিভিন্ন প্রশ্ন। নগরীর প্রবেশপথে বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, বংশাল, সদরঘাট, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ-বছিলা, গাবতলী, রামপুরা, দক্ষিণ বনশ্রী, বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরার সড়কে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী ঢাকার অন্যতম একটি প্রবেশপথ। তাই ওপরের নির্দেশে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে দায়িত্বরতদের নির্দেশ দেয়া আছে।’

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এর আগে ভোরে গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে এবং আশুলিয়ায় একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। গত রাত ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া গতকাল রমনা থানার সামনে পুলিশের একটি গাড়ি এবং উত্তরায় একটি মাইক্রোবাস আগুনে পুড়েছে, যদিও এ দুটি ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে জানা যায়। এর আগের দুইদিনেও রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয়ে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নাশকতা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘দেশে যেকোনো ধরনের অরাজকতা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।’

তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কঠোর ঘোষণা জনমনে আতঙ্ক দূর করতে পারেনি। বরং গতকাল ঢাকার রাস্তায় ঘুরে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নাশকতা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৩ তারিখ ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় যেকোনো অপতৎপরতা আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। আইনে যে ক্ষমতা আছে আমরা সেটার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করব।’

মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আজকের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আমি ঢাকাবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, এ দিনকে ঘিরে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মোটরসাইকেলে এসে একটি বা দুটি ককটেল মেরে যারা পালিয়ে যাচ্ছে, অনতিবিলম্বে আমরা তাদের ধরে ফেলব।’

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় আট লাখের বেশি সদস্য আজ সারা দেশে নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন আছে। দেশের ৫৮৭টি কেপিআই স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীসহ ঢাকায় ১২ প্লাটুন ও আশপাশের জেলায় দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন নেতার পেজে ১৩ নভেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি পালনের কথা প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তাদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে ঢাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে। এরই মধ্যে চোরাগোপ্তা হামলার কয়েকটি ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে শাহজাদপুর ও মেরুল বাড্ডায় বাসে আগুনের খবর শুনে দিন শুরু করেছিলেন নগরবাসী। কাছাকাছি সময়ে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আরো দুই জায়গায়। এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাত জায়গায় হাতবোমা হামলা ও তিনটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনা রাজধানীবাসীকে উদ্বেগে ফেলেছে।

সেদিন সন্ধ্যার পর চোখের সামনে আগুনে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস পুড়ে যেতে দেখেছেন কল্যাণপুরের বাসিন্দা নুরুল হক। তিনি সেই আগুনের স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। শুধু নুরুল হকই নন, যাত্রাবাড়ীর শারমিন জাহানেরও একই অবস্থা। চতুর্থ শ্রেণী পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে শুনেছেন ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ। এর পর থেকে তিনিও রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন। মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের বাসের চালক সুমন শেখের মনে আতঙ্ক ধরিয়েছে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা। কখন কী হয়ে যায় প্রতিনিয়ত সেই উৎকণ্ঠা নিয়ে রাজধানীতে বাস চালাচ্ছেন তার মতো শত শত চালক। সুমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চারদিকে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। পেটের দায়ে আতঙ্ক নিয়ে বাস চালাচ্ছি।’

গত কয়েকদিনের নাশকতার ঘটনায় শিল্প মালিকরা কারখানার নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন। বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা ১৩ তারিখ নিয়ে আলাদা করে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ পায়নি। তবে আমরা মনে করি সরকারের উচিত কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। যেকোনো ধরনের নাশকতার বিষয়ে আমরা আমাদের কারখানাগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করে এমন একাধিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গতকাল বিজনেস ডাইজেস্ট এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই জানিয়েছেন, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত বিদেশীদের মধ্যে এক রকমের উদ্বেগ কাজ করছে। দুশ্চিন্তায় আছেন তারা নিজেরাও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউরোপভিত্তিক এক বৃহৎ ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘মোটা দাগে একটা আতঙ্ক আছে। এটা আমাদের মধ্যে যেমন আছে, তেমনি আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশী সহকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে। এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে আসা একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। তাদেরকে আজ (গতকাল) কারখানা পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা নেই বলে তাদের জানিয়েছি। কিন্তু ঢাকা থেকে কিছুটা দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত বলেই হয়তো তারা কারখানা পরিদর্শন কর্মসূচিটি স্থগিত করেছেন। কালকেও (আজ) বিদেশী ওই সহকর্মীদের নিয়ে আমরা কারখানা পরিদর্শনে যাব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাল প্রায় সব ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান তাদের বাংলাদেশ কার্যালয় খোলা রাখছে। তবে উপস্থিত হয়ে অফিস করার বিষয়টি নমনীয় রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে অনিরাপদ বোধ করলে কেউ বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে পারবেন।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশকিছু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গতকাল অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করেছে। এছাড়া আজও সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ১১ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনিবার্য কারণে ১২ ও ১৩ নভেম্বর সব ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ে পূর্বনির্ধারিত কোনো পরীক্ষাও নেয়া হবে না। এছাড়া আজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাসা থেকে কাজ করবেন। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের ক্যাম্পাসের সব ক্লাস অনলাইনে চলবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল গতকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরীক্ষাসহ ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার কোনো কারণ না জানালেও সেগুলোর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সবার নিরাপত্তা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি গতকাল বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়েও সশরীরে ক্লাস স্থগিত ছিল। এছাড়া বিদ্যালয়গুলো পৃথক নোটিসে জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বরও (আজ) সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত থাকবে এবং অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আজ অনলাইনে ক্লাস নেবে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল গতকালের পাশাপাশি আজও অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের সভাপতি একেএম আশরাফুল হক বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং পরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনলাইনে পাঠদানের দাবি জানিয়েছিলাম। স্কুলগুলোও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১২ ও ১৩ নভেম্বর অনলাইনে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে জনগণকে গণপ্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ। মঙ্গলবার ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসুর চার ভিপির স্বাক্ষরে সম্মিলিত ছাত্র সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের লকডাউন কর্মসূচি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আছে। বিশেষ করে গত তিনদিনে ১৩টির বেশি বাসে আগুন, ৩০-এর অধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটাকে আমরা ইতিবাচক মনে করি। কিন্তু যাত্রীবেশে কেউ যদি পরিবহনে আগুন দিতে যায় তাহলে কী হবে? অপরাধীদের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ ভয়ের মধ্যে আছে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বা বিদেশী ক্রেতারা কারখানা পরিদর্শনে যেতে পারছেন না। যে বিষয়গুলো রাজনৈতিক, তা পুলিশ দিয়ে মোকাবেলা সম্ভব নয়। এটা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রমের কারণে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতার শঙ্কায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে শুরু করে প্রতিটি থানার সামনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ থেকে ১০ জন করে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর