নারী ফুটবলারদের ফ্রিস্টাইল মারামারিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ঘটে গেছে নজিরবিহীন ঘটনা। উমেন্স ফুটবল লিগে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও জামালপুরের কাঁচারিপাড়া একাদশের খেলার ৩০ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের ফুটবলাররা জড়িয়ে পড়েন মারামারিতে। মেয়েদের খেলায় ছেলেদের মতো মারামারি, ফুটবল নয় যেন রেসলিং চলছিল কমলাপুরের টার্ফে!
কাঁচারিপাড়া একাদশের ফুটবলার সাবিত্রি ত্রিপুরা ফাউল করেছিলেন ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমাকে। পড়ে যাওয়া মনিকা উঠে দাঁড়িয়ে আক্রমণ করেন সাবিত্রিকে। তখনই শুরু হয় গন্ডগোল। মাঠের প্রায় সব খেলোয়াড় ঘটনাস্থলে ছুটে এসে জটলা পাকিয়ে মারামারি শুরু করেন। রেসলিংয়ের মতো একে অন্যকে ধরে আছাড় মারছিলেন।
রেফারিকে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে খেলা শুরু করতে ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে। রেফারি ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা ও কাঁচারিপাড়ার সাবিত্রিকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করা হয় ফরাশগঞ্জের মারিয়া মান্দাকে।
ঘটনাবহুল ম্যাচটিতে ফরাশগঞ্জ দেশের নারী লিগে রেকর্ড করে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। প্রতিপক্ষের জালে তারা গোল দিয়েছে ২৩টি। ২৩-০ গোলের এই জয় দেশের নারী ফুটবল লিগে কোনো দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। আগের রেকর্ড ছিল ২০-০ গোলের। ২০২১ সালে এই মাঠেই নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ২০-০ গোলে হারিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস।
ফরাশগঞ্জের এই রেকর্ড ব্যবধানের জয়ে ডাবল হ্যাটট্রিক করেন মারিয়া মান্দা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। দুইজনই করেছেন ৬টি করে গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন তহুরা খাতুন। জোড়া গোল করেছেন শামসুন্নাহার সিনিয়র ও বিপাশা। একটি করে গোল করেন সামিকশা, মনিকা চাকমা, প্রীতি ও অনামিকা।
ফরাশগঞ্জ প্রথম ম্যাচে ১০-০ গোলে হারিয়েছিল ঢাকা রেঞ্জার্সকে।