1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

দুই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও ফাঁস : লাপাত্তা আসামিরা, বিপাকে পুলিশ

সাহেদ আহাম্মদ |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১০০ বার পঠিত

১০ দিনের মধ্যে দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও ফাঁসে বিপাকে পড়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ(ডিএমপি)। আলোচিত ঘটনা দুটি হচ্ছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ পোড়ানো এবং সর্বশেষ প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পারভেজ হত্যার ঘটনা।

ডিএমপি বলছে, দুই ঘটনায় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি-পরিচয় প্রচারসহ ভিডিও ফাঁস হওয়ায় আসামীরা লাপাত্তা। সর্বাত্মক চেষ্টা স্বত্ত্বেও আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ।

উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘আনন্দ শোভাযাত্রার’ জন্য তৈরি করা আলোচিত মোটিফ ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত যুবক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। যদিও তাকে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার শুরুর আগেই গ্রেপ্তারের সুখবর দিতে চেয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ(ডিএমপি)।

গতকাল রোববার(১৩ এপ্রিল) দুপুরে নববর্ষের নিরাপত্তা ব্রিফিংকালে স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছিলেন, “আমরা কোন মামলা তদন্তের আগে কোন কথা বলি না। তবে এই ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ক্লোজ। এই মামলা তদন্ত ও জড়িতকে শনাক্তে আমরা খুব নিকটে পৌঁছে গেছি। আমরা আশা করছি শোভাযাত্রার শুরুর আগেই আমরা একটা সন্তোষজনকভাবে মামলাটা ডিটেকশন করতে পারবো। এর মধ্যে আমরা যথাসম্ভব জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।”

ডিএমপি’র তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গোয়েন্দা কাজ করছে। কিন্তু সন্দিগ্ধ সেই যুবককে গ্রেপ্তারে কোনো সুখবর আজও নেই।

গত ১২ এপ্রিল ভোর ৪টা থেকে ৫টার মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে নববর্ষের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ উপলক্ষ্যে বানানো আলোচিত মোটিফ ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’সহ পাশাপাশি, ‘শান্তির পায়রা’ মোটিফের একাংশও আগুনে পোড়ানো হয়। শাহবাগ থানায় একটি মামলাও হয়।

‘ফ্যাসিস্টের প্রতিকৃতিতে’ আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিওতে মাস্ক পরা যে যুবককে দেখা গেছে, তিনি আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ কর্মী বলে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধারণা।

শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মুনসুর বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, “ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মামলাটি এখন তদন্ত করছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এখনও কোনো সুখবর নেই।”

গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার(ডিসি) মো. মোস্তাক আহমেদ বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, “আমরা মামলা তদন্ত করছি। এখনো সন্দেহভাজন সেই যুবককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সে দেশে নাকি দেশের বাইরে সে রকম কোনো তথ্য আমরা এখনো বের করতে পারিনি। হয়তো আরও সময় লাগবে।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) এস, এন, মো. নজরুল ইসলাম বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, আমরা তো ওকে(সন্দিগ্ধ যুবক) নজরদারিতেই রেখেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে আগুন দেয়ার ভিডিওটা ছেড়ে দেবার পর থেকে ওই যুবক আর নাই। নাই মানে মোবাইল ফোন বন্ধ, আর অন করেনি।

“আমরা সর্বশেষ তার লোকেশন পেয়েছিলাম গোপালগঞ্জে। এরপর থেকে বন্ধ মোবাইল। সে পালানো কি-না! ধারণা করা হচ্ছে সে দেশের বাইরে পালিয়েছি। আমরা ‍ওই যুবকের আগুন দেয়ার ঘটনার ভিডিও পুলিশ ফাঁস করেনি। বরং বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয় সে চেষ্টাই করা হয়েছে।”

অন্যদিকে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম পারভেজ (২৪) খুনের ঘটনাতেও ভিডিও ফাঁসের পর লাপাত্তা হয়ে গেছে মূল আসামীরা।

গত শনিবার মিডটার্ম পরীক্ষা শেষে বিকাল ৩টায় বন্ধু তরিকুল, সুকর্ণ, ইমতিয়াজসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে র‌্যানকন বিল্ডিংয়ের সামনে আলামিনের পুরি-সিংগারার দোকানে-নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল এবং হাসাহাসি করছিল। তাদের পেছনেই দাঁড়ানো ছিল ইউনিভার্সিটি অব স্কলারসের দুজন ছাত্রী। পারভেজদের হাসাহাসির কারণ জানতে আসে তিনজন মেহেরাজ ইসলাম (২০), আবু জহর গিফফারি পিয়াস (২০) ও মাহাথির হাসান (২০)। তাদের মধ্যে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্কের বিষয়টি শিক্ষক ও প্রক্টর অফিস পর্যন্ত গড়ায়।

শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হবার পরও সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে। তাতে ছুরিকাঘাতে মারা যান প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম পারভেজ (২৪)।

এ ঘটনায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিহতের মামাতো ভাই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার উল্লেখিত আসামীরা হলেন, মেহেরাজ ইসলাম (২০), আবু জহর গিফফারি পিয়াস (২০), মো. মাহাথির হাসান (২০), সোবহান নিয়াজ তুষার (২৪), হৃদয় মিয়াজি (২৩), রিফাত (২১), আলী (২১) ও ফাহিম (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিন দিন পার হয়ে গেলেও মূল আসামীদের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পারভেজ খুনের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চার আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন মাত্র এজহারনামীয় আসামী হৃদয় মিয়াজি। মামলার বাইরে তিনজন হলেন, আল কামাল শেখ ওরফে কামাল (১৯), আলভী হোসেন জুনায়েদ (১৯) ও আল আমিন সানি (১৯)।

পুলিশ জানিয়েছিল, খুনের ঘটনায় মূল আসামীসহ ইন্ধনদাতা হিসেবে কথিত প্রেমিকাকে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে খুনের ঘটনার ভিডিও ফাঁসের পর ইউনিভার্সিটি অব স্কলারসে পড়া ওই কথিত প্রেমিকাসহ লাপাত্তা হয়ে গেছে মূল আসামীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(এডিসি) মো. আল আমিন বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, “প্রত্যেক উল্লেখিত আসামীকেই শনাক্ত করা হয়েছিল। আমরা যখন জড়িতদের নাম পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত হলাম, তখনই আমরা দেখছি খুনের ঘটনা ও আসামীদের নাম পরিচয়সহ ভিডিও প্রচার হয়ে গেছে। আমরা আর কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। সবার মোবাইল বন্ধ।”

তিনি বলেন, “আমরা মিডিয়ার কাউকে ভিডিওটা দিইনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভিডিওটা ফাঁস হয়ে গেলো। এরপর থেকে মূল আসামীরা আনটাচ। কোনোভাবেই তাদের অবস্থান সনাক্ত করা যাচ্ছে না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর