তাকওয়া শব্দটি আমরা শুনি। কাউকে দ্বীনদার দেখলে বলি, “তিনি খুব পরহেজগার।” আবার নিজের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের তাকওয়াবান করেন। কিন্তু তাকওয়া আসলে কী এবং এটি কীভাবে অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের ধারণা অনেক সময় স্পষ্ট নয়।
কেউ মনে করেন তাকওয়া মানে শুধু আল্লাহকে ভয় করা। কেউ মনে করেন, নির্দিষ্ট পোশাক পরা বা কিছু নফল আমল করাই তাকওয়ার পরিচয়। বাহ্যিক আনুগত্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাকওয়া তার চেয়েও গভীর একটি বিষয়।
সহজ ভাষায় তাকওয়া হলো এমন একটি সচেতনতা, যার কারণে একজন মানুষ মনে রাখে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন, আমার কথা শুনছেন এবং আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের হিসাব নেবেন। এই উপলব্ধি থেকে আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং তার নিষেধ থেকে বেঁচে থাকার নামই তাকওয়া।
তাকওয়াবান মানুষ গুনাহ হয়ে গেলে কাজটি বন্ধ করেন, অনুতপ্ত হন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং পুনরায় না করার সিদ্ধান্ত নিন।
আল্লাহ জানিয়েছেন, মানুষের বংশ, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান নয়, তাঁর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। সূরা আল হুজুরাত, আয়াত ১৩,
আল্লাহর কথা শুনে চোখে পানি আসা সুন্দর। কোনো নসীয়ত শুনে মন নরম হওয়াও নিয়ামত। কিন্তু কয়েক মিনিটের আবেগ বা অনুভূতি তাকওয়া নয়।
তাকওয়া প্রকাশ পায় সিদ্ধান্তের সময়। যেমন ,কেউ না দেখলেও আপনি হারাম থেকে ফিরে এলেন কি না, রাগের সময় অন্যায় কথা বলা থেকে নিজেকে থামালেন কিনা, লাভের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা করলেন কিনা, গোপনে ফোন ব্যবহার করার সময় চোখকে রক্ষা করলেন কিনা, মানুষের হক নষ্ট করার পর ক্ষমা চাইলেন কিনা, এগুলোই তাকওয়ার বাস্তব পরীক্ষা।
তাকওয়া মানে কখনো ভুল না করা নয় বরং ভুল হয়ে গেলে দ্রুত ফিরে আসা, ভালো কাজ দিয়ে ক্ষতি পূরণ করা এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করাও তাকওয়ার অংশ।
তাকওয়া অর্জনের কিছু উপায়-
১,আল্লাহকে জানার চেষ্টা করা
২,ফরজ আমলগুলোকে জীবনের কেন্দ্র বানানো
৩, গোপন জীবনকে পরিচ্ছন্ন করা।
৪ ,হারাম থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক বিষয়ও কমানো অর্থাৎ অনেক মানুষ স্পষ্ট হারাম থেকে বাঁচেন, কিন্তু হারামের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। তারা মনে করেন, “এখনো তো সরাসরি গুনাহ করিনি।”
৫, নিজের নফসকে সব ইচ্ছা পূরণ করতে না দেওয়া।
৬, প্রতিদিন নিজের হিসাব নিজে নেওয়া অর্থাৎ প্রতিদিন নিজের ভুলভ্রান্তি গুলোকে সামনে নিয়ে আসা এবং সেগুলো থেকে নিজেকে পরিত্রাণ করা।
৭, ঘুমানোর আগে পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে ভাবা আজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কাজটি করতে পেরেছি,
কোথায় আমি সীমা অতিক্রম করেছি?
কারো কনো হক নষ্ট করেছি কিনা?
কোন গুনাহটি বারবার করা হচ্ছে?
অর্থাৎ নিজের হিসাব নিজে নেওয়া এবং কোন অন্যায় বা গুনাহ বড় হওয়ার আগেই শনাক্ত করে নিজেকে সংশোধন করা।
৮, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা।
রাসূলুল্লাহ ( সাঃ) তাকওয়ার নির্দেশের সঙ্গে মানুষের প্রতি উত্তম আচরণের কথাও বলেছেন।
আপনার তাকওয়া বোঝা যাবে আপনার অধীনস্থ মানুষের সঙ্গে আচরণে, পরিবারের সামনে ভাষায়, কর্মচারীর পাওনা দেওয়ার ক্ষেত্রে, দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং কারও ভুলের সময় আপনার প্রতিক্রিয়ায়।
৯,তাকওয়ার জন্য নিয়মিত দোয়া করা। রাসূল (সাঃ ) দোয়া করতেন তাকওয়ার জন্য ,যার অর্থ - হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পবিত্র করুন। আপনিই তাকে সর্বোত্তমভাবে পবিত্র করতে পারেন। আপনিই তার অভিভাবক ও মালিক।” সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭২২।
পরিশেষে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, আল্লাহ যেন আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করে হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে রক্ষা করেন এবং তাকওয়াবান জীবন দান করেন,আমিন। ( তথ্য উপাত্তর উপর ভিত্তি করে সহজ করে লেখাটি লিখিত)।
লেখক: ইসলামিক স্কলার ও কোষাধ্যক্ষ, নোয়াখালী জেলা সমিতি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.