জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় হামলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ও ঢাবির তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ কামাল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় পাঁচজনকে হত্যা, ১৫ জনকে হত্যাচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন চলাকালে তা দমনের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ তথা প্রসিকিউশন। ওই অভিযোগের ওপর রোববার শুনানি শেষে তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পাঁচ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া পাঁচ আসামি হলেন—অধ্যাপক জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের আগামী ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য উপাদানের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.