
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঝটিকা মিছিল করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফোটাচ্ছে একের পর এক ককটেল। বাস-ট্রেনে আগুনও দেওয়া হচ্ছে। এসব নাশকতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এরই মধ্যে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আবারও ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, সরকার কীভাবে তা মোকাবিলা করছে এবং দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কীভাবে দেখছে বিএনপি—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে এ প্রশ্নের উত্তর একেবারে একরকম নয়। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে তিনটি বিষয় বারবার সামনে এসেছে—নিষেধাজ্ঞা, বিচার ও জবাবদিহি।
[caption id="attachment_42709" align="alignnone" width="300"]
গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানে ঝটিকা মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা/ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া[/caption]
১১ সেপ্টেম্বরের পর ২৪ সেপ্টেম্বর:
গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। এসময় তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়।
১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২ দলীয় জোটের আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তোলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে রাজধানীতে লোকজন জড়ো করে মিছিল করতে পারছে।
তার প্রশ্ন, ‘নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে?
এর পরের শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একইদিন কাফরুল থানার সামনে একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়। দুই দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে এক ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বাড্ডা ও গুলশানেও আওয়ামী লীগের পৃথক ঝটিকা মিছিলের খবর আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিছিলকারীরা সরে যান।
[caption id="attachment_42710" align="alignnone" width="300"]
কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে আগুন[/caption]
অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাজধানীতে আবারও একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়। প্রশ্ন ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে।
রাজপথে বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি:
আওয়ামী লীগের এসব তৎপরতার প্রতিক্রিয়া শুধু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনগুলোও মাঠে কর্মসূচি দিয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির যৌথসভা থেকে সিদ্ধান্ত হয়, যেকোনো ধরনের ‘অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। ২২ সেপ্টেম্বর যুবদল, ২৩ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দল, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও তিন অঙ্গসংগঠনের যৌথভাবে মিছিলসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়।
এরই মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিক্রিয়া বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠের কর্মসূচিতেও দৃশ্যমান হয়েছে।
রিজভীর ভাষায় ‘পুনরুত্থান’:
২৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে আবারও বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি বলেন, যারা আগুন-বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত, তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। একই দিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবেন না।’
এর আগে ১৯ জুন তিনি বলেছিলেন, ‘পরাজিত শক্তির শেকড় রয়ে গেছে।

‘আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি’:
১৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপিকে উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার রাজনৈতিক বক্তব্য শুধু দেশে ফেরার ঘোষণা পর্যন্ত সীমিত থাকেনি।
৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন। একই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নন।
১১ সেপ্টেম্বর কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক, তাকে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এরপর ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দেশে ফিরে কারাবরণ করতেও প্রস্তুত বলে জানান। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার ইচ্ছার কথাও জানান।
এর আগে জুলাইয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেছিলেন।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত দলটির সভাপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার ও রাজনৈতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে।
শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’:
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনার ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ হিসেবে জাগো নিউজকে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগ তাদের হতাশ নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চাইলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘কালকেই আসুন’:
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আরও কড়া বক্তব্য দেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
১৮ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর কেন, শেখ হাসিনা তার আগেই দেশে ফিরতে পারেন।
তার ভাষায়, ‘কালকেই আসুন। আমরা আপনাকে আইনের মাধ্যমে রিসিভ করব। সঙ্গে দুটি হাতকড়া থাকবে।’
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা:
২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে সমাজে একটা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এ ধরনের তৎপরতা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
‘আওয়ামী লীগের তৎপরতায় সরকার শঙ্কিত নয়’:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২০ সেপ্টেম্বর বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রতিক তৎপরতায় সরকার শঙ্কিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ৩০ আগস্ট আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে।

‘একটা তো ষড়যন্ত্র চলছে’:
আওয়ামী লীগের আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটা তো ষড়যন্ত্র চলছে। আগুন দিচ্ছে, অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা মনে করছে এভাবে করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো সম্ভব। এখানে অপরাধগুলো আইনগতভাবে দেখবে সরকার। আমরা গণতান্ত্রিক দল, আমাদের সব পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।’
‘আওয়ামী লীগ আর ফিরে আসবে না’:
২০২৫ সালের ২১ জুন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছিলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন, আওয়ামী লীগ আর ফিরে আসবে না।’
তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য সব সময় একই ধরনের নয়।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিপন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো নিষিদ্ধ করা হয়নি। দল হিসেবে তো তারা আছে। কিন্তু তারা কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
একই সাক্ষাৎকারে রিপন বলেন, জামায়াতকে যেভাবে দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আইনি ব্যবস্থার লক্ষ্য আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা নয়।
আইনি অবস্থানের দিক থেকে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধানকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২১ মার্চ রিজভী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অপরাধে জড়িত নন—এমন ব্যক্তিদের জনগণ রাজনীতি করার সুযোগ দিলে বিএনপির আপত্তির কারণ থাকবে না। তবে অপরাধ, অর্থ পাচার ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের কথাও বলেছিলেন তিনি।
বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা:
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়াও যুক্ত হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্য ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন অভিযোগের বিচার হওয়ার কথা বলছেন। তবে বিচার এবং একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ—দুটি বিষয়কে বিএনপির সব নেতা একইভাবে উপস্থাপন করছেন না।
কারও বক্তব্যে মূল জোর আইনগত ব্যবস্থা ও বিচারের ওপর, কারও বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কথা, আবার কেউ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং দল হিসেবে নিষিদ্ধ না হওয়ার পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি, মামলা-গ্রেফতার, বিচারপ্রক্রিয়া, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং বিদেশ থেকে তার ধারাবাহিক রাজনৈতিক বক্তব্য—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।
প্রশ্ন এখন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা কতটা বাড়ে, চলমান বিচারপ্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রশ্নটি কোন আইনি কাঠামোয় নির্ধারিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.