1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

জুলাই শহীদ দিবস আজ : আবু সাঈদের আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন দাবি জোরালো হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৬ বার পঠিত

‘জুলাই শহীদ দিবস’ আজ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান আবু সাঈদ ছিলেন নয় ভাই-বোনের মধ্যে অষ্টম। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আন্দোলনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটা আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দিতে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল আবু সাঈদের মৃত্যু। মূলত তার মৃত্যুর পরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে সারা দেশ। স্বৈরাচার সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার বিচারের দাবি উঠতে শুরু করে।

১৬ জুলাই আবু সাঈদকে গুলি করার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবীব। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘ওইদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ, পুলিশ, প্রশাসনের অবস্থানের কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিই শহর থেকে রংপুরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করব। কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছাতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। রাবার বুলেট ছুড়ে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ হামলার প্রতিবাদে কয়েকজন সামনে এগিয়ে যাই। এ সময় আবু সাঈদ সবার সামনে ছিল। পুলিশ তখন আবু সাঈদকে লাঠি-রাইফেল দিয়ে আঘাত করে। পুলিশের আঘাতে তখন তার মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। ওই অবস্থায়ই সে আবারো উঠে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বলতে থাকে, ‘শ্যুট মি…শ্যুট মি…’। ওই সময়ই এক পুলিশ সদস্য তাকে গুলি করে। প্রথম গুলির পরও সে ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর পুলিশ তাকে আরো গুলি করলে সে লুটিয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী আবু সাঈদকে প্রায় ১৪ মিটার দূর থেকে প্রাণঘাতী মেটাল প্যালেটসে ভরা শটগান দিয়ে অন্তত দুবার গুলি করা হয়েছিল। তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, তলপেটসহ বুকের ডান পাশে ৪০টি মেটাল প্যালেট এবং বাঁ পাশে ৫০টি মেটাল প্যালেটের আঘাত ছিল।

আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ওইদিনই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। সরকারের পক্ষ থেকেও আন্দোলন দমনে ছয় জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ আরো কঠোর অবস্থান নেয়া হয়। এরপর এ আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমন্বয়কদের একজন আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি। তিনি বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলা দেখে আমরা ১৬ জুলাই প্রথম বড় ধরনের প্রতিবাদের আয়োজন করি। ওই কর্মসূচির মাঝেই আমরা আবু সাঈদের মৃত্যুর সংবাদ পাই। ওইদিনই ঘোষণা দেই আবু সাঈদের মৃত্যুর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। ওই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হয়। মূলত আবু সাইদের মৃত্যুর পর থেকেই আন্দোলনটি আর কোটা সংস্কারের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সরাসরি আমরা সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার বিচারের দাবি করতে না পারলেও পরোক্ষভাবে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশদাতার বিচারের মাধ্যমে আমরা মূলত শেখ হাসিনার বিচারই চেয়েছিলাম।’

আবু সাঈদের মৃত্যুর পরও প্রশাসন এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলে জানান তার বড় ভাই রমজান আলী। তিনি বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘আবু সাঈদকে ঘিরে আমাদের পরিবারের সবার অনেক স্বপ্ন ছিল। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারের সবাই অনেক ভেঙে পড়ে। ওই অবস্থায়ও প্রশাসন বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করেছিল। চাপ দেয়া হচ্ছিল রাতের মধ্যে লাশ দাফন করতে। রাজি না হওয়ায় আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল ফল ভালো হবে না। এছাড়া আবু সাঈদের জন্য যখন মোনাজাত করা হয়, তখন একজন ইমাম স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও বিচারের দোয়া করেছিলেন। এজন্য ওইদিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছিল। তিনি বাড়িতে অবস্থান করতে পারেননি।’

আবু সাঈদের হত্যার বিচারের অগ্রগতিতে পরিবার সন্তুষ্ট নয় উল্লেখ করে রমজান আলী বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রতি আন্তরিক কিন্তু আবু সাঈদ হত্যার বিচারের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। আমরা চাই দ্রুত আবু সাঈদসহ সব শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

গত বছর ১৬ জুলাই কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবু সাঈদসহ মোট ছয়জন নিহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে দিনটিকে জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আজ সাধারণ ছুটি। ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ উপলক্ষে বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া শহীদদের মাগফিরাতের জন্য দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর