1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

জুমার খুতবায় শবে বরাতের ফজিলত ও করণীয়

ইসলাম ও জীবন |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৯ বার পঠিত

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—তিনি সময় ও যুগের স্রষ্টা, দিন ও বছরের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণকারী এবং মাসগুলোর মধ্যে কিছু মাসকে বিশেষ মর্যাদা দানকারী। আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তিনি প্রশংসিত ও কৃতজ্ঞতার উপযুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি সৃষ্টির ওপর সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং অন্তরসমূহে যা গোপন আছে তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে আনার জন্য পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের উপর এবং তাঁর সাহাবিদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—যতদিন দিন ও যুগ অব্যাহত থাকে।

হে মানুষ! জেনে রাখো, শবে বরাত বা শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত বরকতময় ও মহিমান্বিত রাত। এই রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। আদম সন্তানের সকল আমল, তাদের রিজিক এবং তাদের নির্ধারিত সময়সীমা পুরো বছরের জন্য এই রাতে লিখে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সহিহ ও হাসান হাদিস রয়েছে।

হে ভাইয়েরা! জেনে রাখো, এই রাত ও এই দিনে মানুষের জন্য বহু নেক কাজ সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি কাজ হলো—এই রাতে ইবাদত করা, দিনে রোজা রাখা, দোয়া করা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, এই রাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহ স্মরণ ও আলোচনা করা এবং এসব আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। আলী (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন—যখন শাবানের ১৫ তারিখের রাত আসে, তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো এবং দিনে রোজা রাখো। কারণ আল্লাহ তাআলা ওই রাতে সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন—আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কোনো রিজিকপ্রার্থী, যাকে আমি রিজিক দান করব? আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি মুক্তি দেব? এভাবে তিনি ফজর হওয়া পর্যন্ত বলতে থাকেন। এ হাদিসটি ইবন মাজা (রহ.) বর্ণনা করেছেন। যদিও সনদের দিক থেকে এতে দুর্বলতা রয়েছে, তবে ফজিলতের ক্ষেত্রে এটি আমলের যোগ্য হিসেবে গণ্য করা যায়।

আরেকটি আমল হলো কবর জিয়ারত করা, দোয়া করা এবং মৃতদের কাছে সওয়াব পৌঁছে দেওয়া। এ বিষয়ে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে—তিনি বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার কাছ থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমি তাঁকে জান্নাতুল বাকি‘ কবরস্থানে পেলাম। তিনি বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছ যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আপনার কোনো স্ত্রীর কাছে গেছেন। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনি কালব গোত্রের ভেড়ার লোমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি ওই রাতে জান্নতুল বাকি কবরস্থানের অধিবাসীদের জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য মাগফিরাত ঘোষণা করেন।

কিছু আলেম এই রাতে গোসল করাকেও উত্তম বলেছেন। এগুলোই এই রাতের সঙ্গে সম্পর্কিত ভালো আমল। আর মানুষ যেসব কাজ নিজেরা নতুনভাবে চালু করেছে, যেমন—মোমবাতি ও বাতি জ্বালানো, মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা, মসজিদ, ঘরবাড়ি ও কবরস্থানে আলোকসজ্জা করা, সেখানে একত্র হয়ে খেলাধুলা ও আনন্দ-উৎসবে লিপ্ত হওয়া, আগুন জ্বালানো ইত্যাদি—এসব কাজের পক্ষে সুন্নাহ থেকে কোনো প্রমাণ নেই। বরং এগুলো নিন্দনীয় বিদআত এবং পরিত্যাজ্য। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, মসজিদে বাতি জ্বালানোর রীতি চালু করা।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। সেই রাতে প্রত্যেকটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। (সুরা দুখান: ৩, ৪)

আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এতে যে আয়াতসমূহ ও সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আর আমি ও আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর