জীবন একটাই! আগে ভালোবাসো নিজেকে জীবনে যা কিছু করো, নিজেকে খুশি রাখার মাধ্যম অন্য কারো মাঝে খোঁজার চেষ্টা করো না। কখনো কারো উপর এতো এক্সট্রিম লেভেলের নির্ভরশীল হয়ো না, যাতে তোমার এক্সপেকটেশন পূরণ না হলে মনটা ছোট হয়ে যায়। বিশ্বাস হারিয়ে নিজেকে অসহায় মনে হয়, আত্মহননের পথ বেছে নিতে মন চায়! মনে রাখবে- জীবন একটাই। পুনর্জন্মের কোন সুযোগ নেই। তাই অন্যের জন্য নিজেকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত চরম বোকামী এবং রীতিমতো অন্যায়। বি পজিটিভ। সকল প্রকার নেগেটিভিটি পরিহার করো।
তোমার মন খারাপ? তুমি হেমন্তের গান শুনো, নিজেকে এক কাপ গরম কফি বানিয়ে দাও। বিকেল বেলা মিষ্টিরোদে আপন মনে নিজের সাথে নিজে কথা বলো। পছন্দের লেখকের বই পড়। কোনো সিনেপ্লেক্সে যেয়ে সিনেমা দেখো। পার্কে ঘুরো। সাগরের কাছে চলে যাও। সমুদ্রের সাথে কথা বলো। নিজের কোন বিশেষ ক্রিয়েটিভিটি থাকলে সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখো।
সোস্যাল মিডিয়ায় অন্যকে ব্যঙ্গ করে স্ট্যাটাস লেখা, নিজের দুঃখ, দূর্বলতা জনসম্মুখে প্রকাশ করা, এসব কোন বুদ্ধিমত্তার কাজ না। খুব বেশী মন খারাপ হলে রুম অন্ধকার করে চুপচাপ বসে থাকো। পুরানো কোন স্মৃতি মনে করো। হাসো, কাঁদো যা-ই করো নিজের সাথে নিজের এমন একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করো, যাতে সবসময় একটা কাঁধের প্রয়োজন না পরে।
যদি কোন কাজে সফল হও নিজেকে ট্রিট দাও, যদি অকৃতকার্য হও নিজের সাথে অভিমান করো, নিজের সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও। নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করো। তবে অন্য কারো চোখে নিজের পারফেকশন খোঁজার চেষ্টা করো না। অন্যের চোখ তোমার ত্রুটিগুলোর মাঝে যখন তোমার গুণগুলো খুঁজে পাবে না, তুমি কষ্ট পাবে। পারলে তুমিই পারবে। যদি সম্ভব হয় ফাইনানসিয়ালিও নিজকে ইসটেবলিশড করতে হবে। যাতে তীব্র মুড সুয়িংয়ে নিজেকে একটা চকলেট উপহার দিতে পারো। নিজের জন্মদিনে নিজেকে গিফট দিতে পারো। নিজের পছন্দের ড্রেসটা নিজের জন্য কিনতে পারো। মাঝে মাঝে নিজেকে কিছু ফুল দিবে। ঘরের এক কোণায় ফুল থাকবে, সুন্দর একটা সুগন্ধ ছড়াবে। দেখবা মন আপনা আপনি ভাল হয়ে যাবে।
সবাইকে খুশি রাখাও তোমার দায়িত্ব না। দুনিয়ার কারো পক্ষেই সবাইকে খুশি করা সম্ভব না। যেখানে পারবা না, পারবা না। "না" বলাও শিখতে হবে। কে তোমাকে এপ্রিসিয়েট করে না, কে সময় দেয় না, কে তোমাকে ভালোবাসে না, কে তোমার সাথে ঠিকমত কথা বলে না, পাত্তা দেয় না, তোমার জন্য কার সময় নাই, এসব ভেবে নিজের দু:খ কষ্ট বাড়িও না। যেটা এটেনশন অন্যের জন্য, সেটা আজাইরা টেনশন মাত্র। নিজেকে নিজে এপ্রিশিয়েট করো, নিজেকে নিজে সময় দাও। তোমার জন্য যার সময় নেই, তোমার প্রতি যার আগ্রহ নেই, তার পিছনে দৌড়ানোটা নেহায়েতই বোকামী। কেন নিজেকে অন্যের বিরক্তির কারণ বানাতে হবে? অযথা নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে হবে?
সোজা কথা- নিজের ব্যক্তিত্ব সুদৃঢ় করতে হবে। একটা সুন্দর ব্যক্তিত্ব থাকার জন্য খুব বেশি কঠিন হওয়ার দরকার নেই। শুধু নিজেকে অতোটুকু ভালবাসলেই হবে, যতোটুকু ভালোবাসলে অন্যের চোখে নিজের জন্য ভালোবাসা খোঁজার প্রয়োজন না পরে 🌻
(সংগৃহীত ও পরিমার্জিত)
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.