আটলান্টিক মহাসাগরে ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূলে তল্লাশি চালিয়ে এসব ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার ভোরে বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পরে, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূলে তল্লাশি চালিয়ে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
তল্লাশির সময় ধ্বংসাবশেষের একটি অংশের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি নিখোঁজ বিমানটিরই ধ্বংসাবশেষ। বিমানটি ছিল একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেলেও বিমানে থাকা ছয় যাত্রী ও ক্রুর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড নৌযান, উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকেরা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে এক নিয়ন্ত্রক পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আপনি কি দিকনির্দেশনা দেখতে পাচ্ছেন না? আপনি কি এটাই বলতে চেয়েছেন? আপনি কি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন?’’
তবে, লাইভএটিসি ডটনেটে ধারণ করা কথোপকথনের রেকর্ডে পাইলটের উত্তর শোনা যায়নি।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের। গত শনিবার রাতে বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে উড্ডয়নের সময় এতে একজন রোগী, তার পরিবারের একজন সদস্য এবং চারজন ক্রু ছিলেন।
রোগী ও তার পরিবারের সদস্য বারমুডার নাগরিক। অন্যদিকে, চারজন ক্রু কানাডার নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।
ন্যানটাকেটের কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে রেডিও যোগাযোগ থেকে জানা গেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
পরে, স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি।
গত শনিবার রাতে কোস্ট গার্ড জানায়, বিমানে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে উইলিয়াম স্পারলিং নামের তাদের একটি নৌযান সারা রাত তল্লাশি চালাবে। একই সঙ্গে নৌযান, উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়।
প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইল বা ৪ হাজার ২৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, বিমানে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বারমুডা সরকার। এক বিবৃতিতে বারমুডার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্ট বলেন, এ গভীর উদ্বেগের সময়ে বিমানে থাকা সবাই ও তাদের পরিবারের কথা তাঁর মনে পড়ছে।
এসময় ছয়জনই নিরাপদে উদ্ধার হবেন বলে আশাবাদ জানিয়ে তিনি উদ্ধার ও তল্লাশি দলের চলমান প্রচেষ্টার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.