দেশের প্রাচীনতম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সড়কের ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য’, যা শিক্ষার্থীসহ সারা দেশের মানুষের কাছে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। গত বছরের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল এ ভাস্কর্যের পাদদেশে। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ‘রাজু’ নামে পরিচিত। ৫ আগস্টের পরও বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘রাজু’। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে ‘রাজুতে আয়’ লিখে পোস্ট করেছেন। তবে এ আহ্বান গত কয়েক মাসে অনেকটাই আবেদন হারিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয় নব্বইয়ের দশকে, শহীদ মঈন হোসেন রাজুর স্মৃতি রক্ষার্থে। ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের গোলাগুলির প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের এ শিক্ষার্থী। ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভাস্কর্যটির পাদদেশ। দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো সমস্যা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিগ্রহের মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজুতে আসেন শিক্ষার্থীরা। এসব কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
এর ব্যতিক্রম ঘটেনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে-পরেও। ১ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনা থেকে শুরু করে ১৭ জুলাই পর্যন্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এখান থেকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘রাজাকার’ আখ্যা পাওয়ার পর এখানে এসেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। আবু সাঈদসহ ১৬ জুলাইয়ের শহীদদের গায়েবানা জানাজা হয়েছে এখানেই। আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা এ এলাকা ১৮ জুলাই থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়। দীর্ঘ ১৭ দিন পর ৫ আগস্ট সকালে রাজুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজয়োল্লাস করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে পরবর্তী কয়েক মাস প্রায় প্রতিদিনই রাজুর সামনে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে জমায়েত হতেন শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি এ সময় কর্মসূচির বেশির ভাগই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ‘সবাই রাজুতে আয়’, ‘ওই সবাই রাজুতে আয়’ কিংবা ‘তোরা সবাই রাজুতে আয়’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতেন। মুহূর্তেই শত শত তরুণের পদচারণায় ভরে উঠত রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ। ফ্যাসিবাদবিরোধী নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ।
তবে সম্প্রতি সেই চিত্র প্রায় পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ‘রাজুতে আয়’—ডাকলেই আর আগের মতো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আসেন না। এজন্য গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিভক্তি, অভ্যুত্থানের কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ বেশকিছু কারণ উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ক্যারিয়ারমুখী হওয়া এবং জনভোগান্তি কমাতে রাস্তা বন্ধ করে কর্মসূচি না করার কথা জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আবারো শিক্ষার্থীরা ‘রাজুতে আসার’ আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে প্রত্যাশা শিক্ষক, ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল হামিদ। গত বছরের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে যেকোনো সংকটে রাস্তায় নেমে আসতেন। সহপাঠীদের সঙ্গে জমায়েত হতেন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিচ্ছেন না। এর কারণ জানতে চাইলে বিজনেস ডাইজেস্টকে তিনি বলেন, ‘বেশকিছু কারণে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। প্রথমত, বিভিন্ন মত ও পথের মানুষকে নিয়ে সফল হওয়ার পর অন্য অংশীদারদের প্রতি নেতাদের পল্টিবাজি এবং কতিপয় বড় নেতা তৈরি হওয়া। এছাড়া যে স্পিরিট নিয়ে শিক্ষার্থীরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ধরে না রাখা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া।’
গণমানুষের আশাহত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে আব্দুল হামিদ বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের প্রথম চাওয়া ছিল আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন। পরবর্তী সময়ে প্রকৃত হত্যাকারী ও দোষীদের বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার। কিন্তু গত এক বছরে তা কি হয়েছে? না, আমরা দেখলাম যে যার আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। নতুন-পুরনো রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু করলেন। ফলে অভ্যুত্থানের নেতাদের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসে ভাটা পড়ল।’
জুলাই অভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। অভ্যুত্থানের আগে-পরে প্রতিটি কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক ছাত্রী অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু ক্রমেই সে সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অভ্যুত্থানে আহত নারী হিসেবে গত বৃহস্পতিবার একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে এর কারণ উল্লেখ করেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী সিতুল মুনা অর্পি। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করেছি বলেই সফল অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু সফলতার পর বেশ কয়েকটি ইমাম বের হলো। তাদের মধ্যে কেউ বড় ইমাম, কেউ মাঝারি ইমাম, কেউবা ছোট ইমাম। কেউ কেউ হলেন মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও অভ্যুত্থানের স্বপ্নদ্রষ্টা। এখানে আমার কী ভূমিকা ছিল সেটা আর খুঁজে পেলাম না। আবার সম্প্রতি অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধারা ভিন্ন রঙ ধারণ করতে শুরু করেছে। নতুন নতুন রাজনৈতিক পরিচয় লক্ষ করা যাচ্ছে। সমন্বয়ক বনাম অসমন্বয়ক বা সাধারণ শিক্ষার্থী ডিভাইডেশন করা হচ্ছে। এসব কারণে আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি না; অন্যদের ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকলেও থাকতে পারে।’
এখনো আন্দোলনে আগ্রহ প্রকাশ করে অর্পি বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘আমি দেশের পরিবর্তন দেখতে চাই। এ বিষয়ে আমি যথেষ্ট কনসার্ন। কিন্তু কোনো একজনকে ইমাম মেনে, তার সবকিছুকে জায়েজ মনে করে, সব সময় সহমত ভাই বলতে পারব না। যেটা আগেও পারিনি, এখনো পারব না।’
গত ১ জুলাই চট্টগ্রামের পটিয়ায় থানায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় সোপর্দ করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নেতাকর্মীরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে দিলেও মামলা নেই এমন অজুহাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে ছাত্র-জনতার ওপর চড়াও হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিযোগ, পুলিশ অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ করলে থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়জন আহত হন। পরদিন ২ জুলাই এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘অভ্যুত্থানপন্থী সব রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও প্লাটফর্মকে’ পটিয়ার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেদিনও বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতার ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় সংগঠন। কিন্তু এ দুটো ঘটনার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্য কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো কমর্সূচি দেখা যায়নি।
অভ্যুত্থানের শক্তির ওপর বারবার আঘাত এলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের অন্য কোথাও প্রতিবাদ কর্মসূচি চোখে না পড়ার কারণ জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সবার ভেতর ছিল সেটা আমরা রক্ষা করতে পারিনি। অভ্যুত্থানের পোস্টার বয়দের কেউ কেউ বিতর্কিত হওয়ার কারণেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়া পরাজিত শক্তির কালেকটিভ প্রোপাগান্ডা তো আছেই। নানাভাবে অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে বিভাজিত করা হচ্ছে। যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন জুলাইয়ে সবাইকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাইরে অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘জুলাই ঐক্য’ নামের দুটি সংগঠন। এর মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চ একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠিত হয়েছে। এ সংগঠনের লক্ষ্য সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে জুলাই ঐক্য চব্বিশের অভ্যুত্থানের চেতনা লালনকারী দেড় শতাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রেসার গ্রুপের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সম্মিলিত মোর্চা। ৬ মে আত্মপ্রকাশের পর জোটটি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সরব ভূমিকা পালন করে। প্রথম সেই আন্দোলনে সফলতাও পায় সংগঠনটি। এছাড়া আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত আমলা ও পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে এবং তাদের অপসারণের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে। জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদের দাবি এবং প্রশাসনিক সংস্কার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যমের দাবিতে আন্দোলন চলমান রেখেছে।
তবে বর্তমানে কর্মসূচিগুলোয় শিক্ষার্থী কমে যাওয়াকে একদিক থেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে শিক্ষার্থীরা সেভাবে রাজপথে সরব ছিলেন না। তারা পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ফলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী তাদের পড়ার টেবিলেই ফিরে যাওয়া স্বাভাবিক। এটিকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি।’
শিক্ষার্থীদের একটা অংশ প্রতারিত হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার তো অভ্যুত্থানের ফসল। তার পরও বিচার, আহতদের চিকিৎসা-পুনর্বাসন, সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কেন আন্দোলন করতে হবে। সরকার অভ্যুত্থানকারী জনতার চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর চাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যেমন শিক্ষার্থীদের একটি চাওয়া ছিল ছাত্রসংসদ নির্বাচন এবং লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা। আবার শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হলেও জুলাইকে কেন্দ্র করে অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। এছাড়া অন্যায়ের সমালোচনা করলেই আগের মতো ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। এ রকম বিভিন্ন চাওয়া পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতারিত বোধ করছেন। আগের মতো আর রাজপথে ফিরে আসতে চাচ্ছেন না।’ তবে ন্যায্যতার প্রশ্নে ফের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
সম্প্রতি রাজনীতিতে নয়া বন্দোবস্তের অগ্রগতি না হওয়া, রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া, চাকরির সার্কুলার কম থাকা, অন্যায়-অনিয়মসহ বিভিন্ন অসংগতি নজরে আসছে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা সরব নন। এর কারণ জানতে চাইলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বলেন, ‘বিভিন্ন ফর্মে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সরকারের কাছে উত্থাপন করছে। অনেকগুলো দাবি আদায়ও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ১৭ বছরে মানুষের নানা ক্ষোভ, না পাওয়ার যন্ত্রণা রয়েছে। এসব নিয়ে এত বেশি কর্মসূচি হচ্ছে যে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। ফলে আমরা ইচ্ছে করেই আমাদের কর্মসূচি কমিয়ে আনছি। রাজপথ এড়ানোর চেষ্টা করি যেন নগরবাসীর ভোগান্তি না হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত। তারা ক্ষতি পোষাতে ব্যস্ত।’
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলা অথবা রাজু ভাস্কর্য হচ্ছে এর এপিসেন্টার। অভিজ্ঞতা বলে, যেকোনো ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিতে শিক্ষার্থীরা এখানে এসে জড়ো হন। গত বছর ন্যায্যতার প্রশ্নে তরুণ সমাজ অভ্যুত্থানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে অভ্যুত্থানের প্লাটফর্ম ও এর অনুঘটকরা রাজনৈতিক রঙ ধারণ করলে তরুণদের আস্থা কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে হয়। বর্তমান বাস্তবতায় তরুণরা মনে করে থাকতে পারেন, জুলাই অভ্যুত্থানের কুশীলবরা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে তাদের ব্যবহার করছে। ফলে তাদের আহ্বান তরুণ প্রজন্মকে এতটা আন্দোলিত করতে পারছে না। তবে আমরা আশাবাদী, ন্যায্যতার প্রশ্নে বরাবরের মতো ভবিষ্যতেও তরুণরা যেকোনো এপিসেন্টারে একত্র হবেন এবং জুলাই বিপ্লবের মতো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।’