প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ আরও বাড়াতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হর্টিকালচার পার্কে যুক্ত হয়েছে নতুন তিনটি বিনোদন সুবিধা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিশুদের কিডস জোন নতুন করে সাজিয়ে চালু করার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং। নতুন এসব বিনোদন সুবিধা চালুর পর পার্কটিতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে।
খাগড়াছড়ি শহরের কাছাকাছি অবস্থিত হর্টিকালচার পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ গাছপালা ও মনোরম পরিবেশের পাশাপাশি এবার যুক্ত হয়েছে রোমাঞ্চকর বিনোদনের নতুন আয়োজন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকদের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যেও পার্কের নতুন রাইডগুলো নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নতুন সংযোজনের মধ্যে জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং পর্যটকদের জন্য তৈরি করছে বাড়তি রোমাঞ্চ। শিশুদের জন্য নতুন করে সাজানো কিডস জোনে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পর কিডস জোন চালু হওয়ায় শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস।
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটক নাসরিন আক্তার বলেন, ‘খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে হর্টিকালচার পার্কে নতুন এসব বিনোদন সুবিধা দেখে ভালো লেগেছে। আগে শুধু প্রকৃতি দেখার সুযোগ ছিল; এখন জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইংয়ের মতো রোমাঞ্চকর বিনোদনের সুযোগও তৈরি হয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে সবাই উপভোগ করতে পারছি।

আরেক পর্যটক মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘পার্কটি আগে থেকেই সুন্দর। এখন নতুন রাইড যুক্ত হওয়ায় জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং বেশ উপভোগ্য। পর্যটন মৌসুমে এখানে আরও বেশি মানুষ আসবে বলে মনে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদর থেকে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে আসা শিশু সুমাইয়া বলেন, ‘আগে অনেকবার এসেছি। তখন আমাদের খেলাধুলা করার তেমন কিছু ছিল না। এখন দোলনাসহ অনেক খেলনা আছে। আমি খুবই মজা পেয়েছি।
স্থানীয় দর্শনার্থী সুমাইয়া বেগম বলেন, ‘শিশুদের বিনোদনের জন্য দীর্ঘদিন পর কিডস জোন নতুন করে চালু হওয়ায় পরিবার নিয়ে পার্কে আসার আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে বড়দের জন্যও নতুন রাইড থাকায় একই জায়গায় পরিবারের সবাই বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছেন।’
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে এ ধরনের নতুন নতুন বিনোদন সুবিধা যুক্ত হলে পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। এর মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি এবং শিশুদের বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এসব সুবিধা চালু করা হয়েছে। জায়ান্ট সুইং ও জিপ লাইনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। কিডস জোনে শিশুদের জন্য থাকবে বিনোদনের আলাদা ব্যবস্থা।’

পর্যটকদের মতে, হর্টিকালচার পার্কে নতুন এসব সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে পার্কটি আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.