1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কোরআন কেন রাসুলুল্লাহকে (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত বলেছে?

ইসলাম ও জীবন |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

আল্লহু তাআলা তাঁর রাসুল মুহাম্মদকে (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি। (সূরা আম্বিয়া: ১০৭)

তাঁকে রহমত বলার অন্যতম কারণ এই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে মানুষকে সরল পথে পরিচালিত করে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছেন। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার অবস্থা সে ব্যক্তির অবস্থার মত যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করল, যখন তাতে তার চার পাশ আলোকিত হলো, তখন পতঙ্গ ও সেসব প্রানী যা আগুনে পড়ে থাকে, তাতে পড়তে লাগল আর সে ব্যক্তি সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। কিন্তু তারা তাকে হারিয়ে দিতে তাতে ঢুকে পড়তে লাগল। এটাই হল তোমাদের অবস্থা আর আমার অবস্থা। আমি আগুন থেকে রক্ষার জন্য তোমাদের কোমরবন্ধগুলো ধরে রাখি ও বলি, আগুন থেকে দুরে থাক, আগুন থেকে দুরে থাক। আর তোমরা আমাকে হারিয়ে দিয়ে তার মাঝে ঢুকে পড়ছো। (সহিহ মুসলিম: ৫৭৫৮)

রাসুল (সা.) মানুষকে হেদায়াতের পথে এনে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাতে এতটাই উদগ্রীব ছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা ইমান আনছে না বলে সম্ভবত আপনি দুঃখে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেবেন। (সুরা শুআরা: ৩)

রাসুল (সা.) দুনিয়াবি ক্ষেত্রেও মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। তিনি আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন, দরিদ্র, প্রতিবেশী ও এতিমদের প্রতি দয়া ও সদ্ব্যবহার করতেন।

রাসুলের (সা.) কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনও ‘না’ বলতেন না। তিনি আল্লাহর পথে শত্রুর মোকাবেলার প্রয়োজনে ছাড়া অন্য কোনো কারণে নিজের হাত দিয়ে কাউকে আঘাত করেননি। যা উপস্থিত থাকতো তা-ই তিনি খেতেন। অভাবী ও পরিবারের প্রয়োজনে তিনি নিজেকে কষ্ট দিয়েও অন্যদের অগ্রাধিকার দিতেন। যা পেতেন তা ফিরিয়ে দিতেন না, আর যা নেই তার জন্য কষ্ট করতেন না। তিনি নিঃস্বদের বোঝা বহন করতেন, অভাবীদের উপার্জন করে দিতেন এবং বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করতেন।

তিনি জীবনে কখনও কারো ওপর প্রতিশোধ নেননি, এমনকি মক্কার মানুষ যারা তাঁকে কষ্ট দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল, তাদের ওপরও না। অথচ তিনি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মক্কা থেকে হিজরত করার সময় তিনি বলেছিলেন, যদি আমার জাতি আমাকে বের করে না দিত, তবে আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।

মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন, তিনি পরম দয়ালু।

মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। (সহিহ বুখারি: ৫৯৯৭) তিনি আরও বলেন, তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানবাসী (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (সহিহ মুসলিম: ২৩১৮)

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসুল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণে অতি আগ্রহী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু। (সুরা তওবা: ১২৮)

আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এতে যে আয়াতসমূহ ও সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আমার ও আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর