1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

এমপিও শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল সুবিধা পেতে আলাদা প্রজ্ঞাপন এর প্রয়োজন আছে কী?

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮১ বার পঠিত

দেশের মোট শিক্ষার ৯৭% বেসরকারীভাবে এবং ৩% সরকারীভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ সত্যকে উপলব্ধি পূর্বক দেশের শিক্ষাকে কাম্য অবস্থানে নিয়ে যেতে বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি বেতন স্কেলের আওতায় এনেছিলেন। এ ব্যবস্থার নাম এমপিও বা monthly pay order নামে পরিচিত। প্রথমে ৫০ শতাংশ সরকারি অংশ দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়, যা বিভিন্ন সরকারের সময়ে পর্যায়ক্রমে শতভাগে উন্নীত হয়েছে।

যখনই নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা হয়, তখনই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়—নতুন পে-স্কেলের সুবিধা তারা পাবেন কি না।

এই উৎকণ্ঠার পেছনে অনেক যুক্তি আছে। অনেক সময় দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কার্যকর হয়েছে, তার কয়েক মাস, এমনকি বছর পেরিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আনতে কোনো আন্দোলন করতে হয়নি কিংবা এ বিষয়ে কোন বাক্য বিনিময়ও হয়নি, এমনকি এ স্কেলের আওতায় ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেতেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়নি। প্রশ্ন হলো যারা ৮ম পে-স্কেলভুক্ত ছিলো,তারাইতো ৯ম পে-স্কেলভুক্ত হবে নাকি? প্রজ্ঞাপনে সবার কথা উল্লেখ থাকলেও অপেক্ষার প্রহর কেন গুণতে হবে বেসরকারী শিক্ষকদের? কেন তাদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন লাগবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে,গণতান্ত্রিক শিক্ষক শক্তির সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন,” সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এ বিষয়ে কোন কথা বলছেন না,আবার কিছু নাম সর্বস্ব গণমাধ্যমও এ নিয়ে মুখরোচক লেখালেখি করছে,আমি মনে করি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল এর জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন এর প্রয়োজন নেই। তারা ৮ম পে-স্কেল এ ছিলো, এখনও আছে, এ বিষয়ে সংশয় এড়াতে শুধু প্রয়োজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিস্কার বিবৃতি।

অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও সেদিন থেকেই তা পেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা কিছু শিক্ষক সংগঠন বিবৃতিবাজির মাধ্যমে নিজেদের ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার চেষ্টা করেছে যুগে যুগে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দেও জাতি তা দেখেছে।

শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সবসময় প্রশ্ন ছিল—এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পৃথক আদেশ জারি করতে হবে কেন? যুগ যুগ ধরে আমলারা সাংবাদিকদের বলে এসেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনুদান দেওয়া হয়। তাই তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি করতে হয়।

নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির পরও গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিজনেস ডাইজেস্টের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখনও জানানো হয়, খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরই মধ্যে যথারীতি ‘ক্রেডিট’ ব্যবসায় নিয়োজিত ফেসবুকভিত্তিক কিছু শিক্ষক সংগঠন হুমকি দিয়ে আসছে।

তবে সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিজনেস ডাইজেস্টকে নিশ্চিত করেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেতে আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে না।

বিভিন্ন ইউটিউবার ও ফেসবুক পেজে নানা অপপ্রচার চলছে বলেও উচ্চপর্যায়ের ওই দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা না বলেই বিভিন্ন ফেসবুক পেজে হীন উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। অপপ্রচারকারীদের দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বহু প্রতীক্ষার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেলের গেজেট জারি করা হয়। গেজেটে ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখ উল্লেখ থাকলেও ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এটি হাতে পাওয়া যায়। জারি করা গেজেটে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর