জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান হওয়ার আগে তিনি এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে প্রতিটি ধাপে তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারে তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেইসঙ্গে ১৫তম বিসিএসে সকল ক্যাডারের মধ্যে মেধাতালিকায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
বুয়েটে কম্পিউটার ট্রেনিং ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) বুনিয়াদি প্রশিক্ষনেও তিনি ‘এ প্লাস’ অর্জণ করেছিলেন। ১৯৬৯ সালের ১৭ মে ঝালকাঠির বিনয়কাঠিতে জন্মগ্রহণ করেন আহসান হাবিব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই স্কুল ও কলেজ পর্যায়েও তিনি সবসময় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে কর অডিট, ট্রান্সফার প্রাইজিং, অ্যাসেসমেন্ট, কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন, ই-ফিলিং, ই-পেমেন্ট, ইনভেস্টিগেশন ও ইন্টিলিজেন্স, ইলিসিট ফিনান্সিয়াল ফ্লো-সহ নানা বিষয়ে তিনি ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, বুলগেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিগাপুর ভ্রমণ করেছেন।
এনবিআরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, বিসিএস কর একাডেমী, আইসিএমএবি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি রিসোর্স পারসন হিসেবে যুক্ত করেছে।
কর্মজীবনে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার, সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।
অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ে সাহসী উদ্যোগ, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরাতে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মাঝেও আহসান হাবিব ব্যাপক জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
ব্যক্তিগত জীবনে আহসান হাবিব বিবাহিত। তার স্ত্রী শামসেদ ফেরদৌস একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া তিনি দুই সন্তানের পিতা। তার ছেলের নাম তাওসীফ আহসান। মেয়ের নাম লামিয়া আহসান। তাওসীফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে শতভাগ বৃত্তি নিয়ে এমআইটিতে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিষয়ে গবেষণা করছেন।
তার মেয়ে লামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি নেন। পরে স্নাতকত্তোর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের এডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়-ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। তবে এক লাখ ডলারের শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ায় তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।