ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে দেখা করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কায়রোতে তাদের বৈঠক হয়। এ সময় ইরান সংকট নিরসনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল-এর।
মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিসি ইরান সংকট সমাধানে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে চলমান প্রচেষ্টার প্রতি মিশরের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এমন একটি চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সহায়তা করবে।
আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যে কোনো ধরনের হামলার বিরোধিতা করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে তিনি কূটনৈতিক উপায়ে আঞ্চলিক সংকটগুলোর সমাধান এবং এসব সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সময়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
এরপর গত ১৮ জুন যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে, কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে পরে সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।
এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘ক্রসরোড’ (কঠিন হামলা-অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ অথবা যুদ্ধের ইস্তফা) সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আক্সিওস-কে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।