গত বছরের শুরুতে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল থেকে বাদ পড়েন তখনকার অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এর ফলে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় আফঈদা খন্দকারকে।
জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও আর্মব্যান্ড ছিল এই ডিফেন্ডারের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি পারফরম্যান্সে ছেদ পড়েছে তাঁর। অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের তিন ম্যাচে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি তিনি। এ কারণে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের আগে জুনিয়র দলের অধিনায়কত্ব হারান তিনি।
শুধু ডিফেন্ডার হিসেবে খেলেও থাইল্যান্ডের সেই আসরে সেরা ছন্দে ছিলেন না তিনি। এ জন্য চলমান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সিনিয়র দলের অধিনায়কত্বও হারাতে হয় তাঁকে। আর সর্বশেষ গত পরশু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে জায়গা হারান ১৯ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক। কঠিন সময়ই যাচ্ছে আফঈদার।
২০২২ সালে প্রথমবার সাফ জেতার পরের বছরই ফুটবল ছেড়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। সেন্টারব্যাক পজিশনে আঁখির অভাব পূরণে ওই সময় গুরুদায়িত্ব চাপে তরুণ আফঈদার কাঁধে। বয়সভিত্তিক ফুটবল মাতিয়ে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকেই এই পজিশনে নতুন কাউকে আর ভাবতে দেননি আফঈদা। কিন্তু গত এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর থেকে অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারছিলেন না তিনি। সঙ্গে পারফরম্যান্সও ছিল গড়পড়তা।
সে সময় আফঈদার পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, ‘সে (আফঈদা) প্রতিভাবান ও তরুণ। তবে সম্প্রতি সে কিছুটা ধীরগতির হয়ে গেছে। আশা করি, সে আগের ছন্দে ফিরে আসবে।’
কিন্তু আফঈদা পারেননি। বরং তাঁর পারফরম্যান্স আরো নিচে দিকে গেছে। তাঁর পরিবর্তে ভারত ম্যাচে একাদশে জায়গা পান আরেক ডিফেন্ডার সুরমা জান্নাত।
আফঈদাকে বেঞ্চে বসানো নিয়ে ভারত ম্যাচের পর বাটলার বলেছেন, ‘একদিন আফঈদা বুঝতে পারবে কেন আমি তাকে চাপের পরিস্থিতি থেকে বের করে এনেছিলাম, তাকে আবারও আরো কঠিন পরিস্থিতির আগুনে ঠেলে দিইনি।’ এরপর আরো বলেছেন, ‘আমি শুধু তাকে কিছুটা বিরতি দিয়েছি, আর এটা তার উন্নয়নেরই একটি অংশ। সত্যি বলতে আমি ঠিক জানি না তার বয়স কত হতে পারে, ১৯ বা ২০ বছর। তবে আমি একটি দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, কারণ আমি জানি, কিছু খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অভিষেক হয় আফঈদার। এর পর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২৪টি; কিন্তু কোনো ম্যাচেই পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েননি। এবারই প্রথম পারফরম্যান্সের কারণে বেঞ্চে বসতে হয় তাঁকে। আর অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরব আমিরাত সফরে। তাঁর অধীনে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটি জয় এবং দুটি ড্রর পাশাপাশি হার ৯টিতে। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। একাদশে জায়গা হারানো আফঈদার চ্যালেঞ্জ এখন সেরা ছন্দে আবারও ফিরে আসা।