ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায় থাকলে তাও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আসা উচিত। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠিত একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়েছে কোনোভাবেই তা কাম্য নয় এবং এটা কোনো ন্যায্য সিদ্ধান্তও নয়।

ছবি – আদ্বীন হাসপাতাল
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, তদন্তে যাদের দায় বা অবেহলা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, হাসপাতালের কোনো ত্রুটি থাকলে হাসপাতালকে জরিমানা করা যেতে পারে কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান যাদের অবদান সর্বজন স্বীকৃত তাদের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
বিস্ময় প্রকাশ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সর্বত্র অরাজকতা ও অন্যায্যতা বিরাজ করছে। অধিকাংশ হাসপাতাল মানসম্মত সেবা প্রদান করে না। যেসব হাসপাতাল মানসম্মত সেবা প্রদান করে সেখানে মাত্রাতিরিক্ত মূল্য ধার্য করে। সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সরকারি হাসপাতালে মানবেতর সেবা গ্রহণ ছাড়া উপায় থাকে না। সেখানে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ২০০০ সাল থেকে স্বল্পমূল্যে মানসম্মত সেবা প্রদান করে আসছে। বিগত ছাব্বিশ বছরে তাদের থেকে ২ কোটির মতো রোগী সেবা পেয়েছে। হাসপাতালে দেড় লক্ষাধিক সার্জারি হয়েছে এবং বিশলক্ষাধিক গর্ভবতী নারী সেবা নিয়েছে। গর্ভবতী নারীর সেবায় সার্জারির বিপরীতে নরমাল ডেলিভারিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অবদান এক অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে। গরীবদের সেবায় এই হাসপাতালে রয়েছে অসামান্য অবদান।
এতো বেশি রোগীর সেবা করলেও বিগত ২৬ বছরে এই হাসপাতালে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার নজির নেই। এটা এই হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাক্ষ্য প্রদান করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তাই সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নবজাতকের মুত্যুকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা বাঞ্চনীয়।