দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, দেশের নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার যা ভালো বুঝবে এবং জনগণের জন্য যা ভালো, সেটাই মূল কথা।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘অতীত ভোলা যায় না। তবে অতীতে আটকে থাকাও যায় না। অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন এগোবে না।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরস্পরের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ বোঝার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে জনগণকে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সব সময়ই চাই, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। আপনাদেরও দিল্লিতে প্রতিনিধি আছেন। তিনিও নিশ্চয়ই চাইবেন, কীভাবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা যায়।’
দুই দেশের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে।’
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য না করার অবস্থানও স্পষ্ট করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাষ্ট্রদূত। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। আমাদের বলাও উচিত নয়। দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, দেশের নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার যা ভালো বুঝবে এবং জনগণের জন্য যা ভালো, সেটাই মূল কথা।’
বাংলাদেশ ও ভারতের গণতান্ত্রিক বাস্তবতা পরস্পরের বোঝা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশের কী ধরনের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইভাবে ভারত কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেটিও বাংলাদেশকে বুঝতে হবে। আমাদের এগিয়ে যেতে হলে পরস্পরের সেই চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখতে হবে।’
ড. আবদুল মঈন খানের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় ৩০ মিনিট ছিলাম এবং অনেক কিছু শিখেছি, কারণ তার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টির কোনো শেষ নেই, চ্যালেঞ্জও থাকবে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির নেতাদের অভিনন্দনও জানান দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। মন্ত্রী সাহেব একজন স্টেটসম্যান। আর স্টেটসম্যান সবসময় নেক্সট জেনারেশনের কথা বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবেন। আমি ওনার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওনার যে অভিজ্ঞতা আছে, যে জ্ঞান আছে, তা আমাদের সবাইকে একটা দিশা দেখাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রিন্স
Copyright © 2026 দৈনিক বিজনেস ডাইজেস্ট. All rights reserved.